1. admin@dailyoporadh.com : admin :
বাবা, আমাকে আর হাত ধরে পার করে দিতে হবে না? আমি একাই পারব? আহ! আমার পাখিটা! আমি সকালে বিদায় দিলাম, চিরবিদায় হয়ে গেল - দৈনিক অপরাধ
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
(ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আটকাবস্থা থেকে দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচজনকে রোববার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪১তম বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক ছাত্রকে কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ভেরিয়েন্ট) ১১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লুটুথ প্রযুক্তিসংবলিত কোনো মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দেবে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ডিসেম্বরের শুরুতে এটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের কম ভাড়ায় চলাচল নিশ্চিত করা উচিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে

বাবা, আমাকে আর হাত ধরে পার করে দিতে হবে না? আমি একাই পারব? আহ! আমার পাখিটা! আমি সকালে বিদায় দিলাম, চিরবিদায় হয়ে গেল

জয়িতা দাস
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ১২ বার পঠিত

মো. শাহ আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারে বসেছিলেন বুধবার দুপুরে। তাঁর ছোট ছেলেটা কুড়ি-পঁচিশ গজ দূরের একটা ঘরে শুয়ে। নটর ডেম কলেজের ইউনিফর্ম পরে বেরিয়েছিল, বাবার তখন অপেক্ষা কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে ছেলেকে নিয়ে ফেরার।

মো. শাহ আলমকে ঘিরে একসময় ছোটখাটো জটলা তৈরি হয়। সেখানে তাঁর বড় ছেলে মুনতাসির মামুন ও মুনতাসিরের এক বন্ধু ছাড়া বাকিরা অপরিচিত। কারও পরনে পাঞ্জাবি, কেউ পরে আছেন লুঙ্গি ও ফুলহাতা গেঞ্জি, কারও পরনে শাড়ি, কারও কোলে শিশু। তাঁরা নিজেদের মধ্যে ফিসফাস করেন, কেউ আবার ছেলেটা নটর ডেম কলেজের, আজই দুপুর ১২টায় রাস্তা পার হতে গিয়ে মারা গেছে এমন সব বিবরণ দেয়। উৎসুক মানুষের প্রশ্নে কেউ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠেন। শুধু নাঈম হাসানের বাবার সেদিকে খেয়াল নেই। তিনি নিজের মতো করে কেঁদে যান। মৃত ছেলের সঙ্গে তিনি অবিরাম কথা বলেন।

বাবাকে বলতে শোনা যায়, ‘বলেছিলে না, বাবা, আমাকে আর হাত ধরে পার করে দিতে হবে না? আমি একাই পারব? আহ! আমার পাখিটা! আমি সকালে বিদায় দিলাম, চিরবিদায় হয়ে গেল?’ বড় ছেলে মুনতাসির কাগজ দিয়ে বাবাকে বাতাস করে, তাঁর শার্টের বোতামগুলো খুলে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে।

একটা সময় বাবাকে ধরাধরি করে দূরে কোথায় নিয়ে বসায় মুনতাসির। সন্ধ্যা ৭টায় তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে নাঈমের লাশ নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের বাসায় যান। জানাজার পর বুধবারই তাঁদের মৃতদেহ নিয়ে লক্ষ্মীপুরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা।

দুপুর ১২টায় দুর্ঘটনাটি ঘটার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে আসে নাঈমের ছোটবেলার বন্ধুরা। তানজিম রায়হান নামে নাঈমের এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়। সে জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে টানা চার বছর একসঙ্গে বসেছে ওরা, ভাগাভাগি করে টিফিন খেয়েছে, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গল্প করেছে, কখনো ফুটবল খেলেছে। ল্যাবরেটরি স্কুলের মাঠ এখনো ওদের আড্ডার প্রিয় জায়গা। বুধবারও ওখানে বসেই শোনে নাঈমের মৃত্যুর সংবাদ।

ঠিক কোথায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল? গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে সেই জায়গায় গিয়ে দেখা যায় নটর ডেম কলেজের পোশাক পরা ছেলেরা দল বেঁধে আসছে। তারা সহপাঠী হত্যার বিচার চায়। ইউনিফর্ম খুলে পিঠে লেখে, ‘আমি বাঁচতে চাই’, খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে লেখে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, লেখে ‘নাঈম হত্যার বিচার চাই’, জানতে চায়, ‘আমার ভাই মরল কেন?’ তারা মিছিল নিয়ে গুলিস্তান থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় নগর ভবনের দিকে যায়। ভবনের ফটক বন্ধ। আবার মিছিল করে যায় সেই বঙ্গবন্ধু স্কয়ারেই।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd