1. admin@dailyoporadh.com : admin :
গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা - দৈনিক অপরাধ
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
(ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আটকাবস্থা থেকে দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচজনকে রোববার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪১তম বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক ছাত্রকে কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ভেরিয়েন্ট) ১১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লুটুথ প্রযুক্তিসংবলিত কোনো মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দেবে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ডিসেম্বরের শুরুতে এটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের কম ভাড়ায় চলাচল নিশ্চিত করা উচিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে

গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

জয়িতা দাস
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৩ বার পঠিত

প্রিজন ভ্যানেও এত গাদাগাদি করে আসামিদের নেওয়া হয় না, যেটা হয় গণপরিবহনে। একটি দেশে নাগরিকেরা কেমন আছে, তা প্রবৃদ্ধির রাংতার ঝিলিকে অন্ধ চোখে ধরা পড়বে না। রাংতা কাগজের একদিকে থাকে সোনালি-রুপালি প্রলেপ, অন্যদিকটা মলিন। সেই মলিন দিকটাতেই বসবাস সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের। চকচকে দিকটায় থাকেন তাঁরা, যাঁদের কখনো ঢাকা-চট্টগ্রামের বাসের খাঁচায় চড়তে হয় না। যে মা-বাবা সন্তানের এতটুকু কষ্টে বিচলিত হন, তাঁরা বাধ্য হন ওই সব খাঁচায় করে তাদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে। আগেকার যুগের ছাত্রছাত্রীরা নদী সাঁতরে, পাঁচ থেকে সাত মাইল হেঁটে স্কুলে যেত। শিক্ষার সেই সংগ্রাম রাজধানীতে এসে আরও কঠিনই হয়েছে।

বছিলা থেকে যাত্রাবাড়ী কিংবা মিরপুর থেকে মতিঝিলের বাসে উঠলেই জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মালুম হবে। আপনি যে-ই হন, সাধারণ বাসে উঠেছেন মানে ভেড়া হয়েছেন। বাড়ি থেকে মাথা উঁচু করে বের হওয়া যাত্রীরা বাসেও ওঠেন মাথা উঁচু করে। নামার সময় তাঁদের মাথা হেঁট হয়ে থাকে। গণপরিবহন এখন গণদুর্ভোগের শিক্ষাসফর। এই শিক্ষাসফরে তাঁরা শেখেন, রাজধানীতে ভেড়ার সঙ্গে মানুষের তেমন তফাত করা হয় না।

রাজধানী নাকি দেশের প্রচ্ছদ। এখানে আপনাকে খরচ করতে হবে উন্নত দেশের চেয়ে বেশি, পাবেন পাথুরে যুগের নাগরিক জীবন।

ধাক্কাধাক্কি, গরম, জ্যাম, ধুলা, কনডাক্টরের ধমক মানতে হবে। মানতে হবে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়। তরুণী ও কিশোরীরা যে মন নিয়ে বাসে ওঠে, নামার সময় কষ্টে ও যন্ত্রণায় তা মুষড়ে থাকে। কেউ মেনে নেয়, কেউ কাঁদে, কেউবা প্রতিবাদ করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মার খায়। ছাত্রদের সঙ্গে বাসওয়ালাদের মারামারি নিয়মিত ঘটনা। গাড়ির ফিটনেস না থাকুক, চালকের লাইসেন্স না থাকুক, অন্যায়ভাবে ভাড়া বাড়ানোর লাইসেন্স দেওয়া আছে। পরিবহনমালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে যাত্রীরা অসহায়। কারণ, সরকার তাঁদের পক্ষে। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়াকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, ‘তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।’ আমাদের সরকারগুলো জনগণের কথা শোনে না, শোনে মালিকশ্রেণির কথা।

দুঃখের দেশে কষ্টের জীবন কাটানো এক পিতা একবার হাহাকার করে উঠলেন: আর তো সয় না, আর কত? সেই কথা শুনে শিয়াল পণ্ডিত সান্ত্বনা দেয়, ‘আর কয়টা বছর সহ্য করো, তারপর আর করতে হইব না!’ মাঝবয়সী মানুষটা আশা নিয়ে তাকান পণ্ডিতের দিকে। ‘তারপর কী হবে, শান্তি পাব?’ বিজ্ঞ শিয়াল লেজ নাড়াতে নাড়াতে বলে, ‘তারপর তো তুমি মারা যাইবা, তোমার ছুটি। কষ্ট করব তোমার ছেলেমেয়েরা।’ এই বন্দোবস্তেই দেশ চলছে। বড়রা কষ্ট করছে, এখন ছাত্রছাত্রীদের পালা। সড়কে গতি নেই, দুর্গতিতে ভরপুর। আজকের দুনিয়ায় গতিই জীবন, গতিই উন্নতি, গতিই সমৃদ্ধি। দুর্গতিতে ভরা সড়কে অগতির চলাচল মানে জীবনেই পিছিয়ে পড়া। এ রকম ঠেলা-ধাক্কার গণপরিবহন যে দেশে থাকে, তাকে উন্নত তো দূরের কথা, সভ্যও বলা যায় না। আধা ঘণ্টার রাস্তা যদি ‘প্রাগৈতিহাসিক কালের’ পরিবহনে দুই ঘণ্টায় যেতে হয়, তাহলে একবারের জন্য পাওয়া এই ধন্য দেশের ধন্য জীবন থেকে কতগুলো বছর হারিয়ে যায়, কত প্রাণশক্তি নষ্ট হয়, কত যন্ত্রণা নিতে হয়, তার হিসাব করলেই বোঝা যাবে কেন আমরা পিছিয়ে থাকি, কেন আমাদের স্বাস্থ্য ভঙ্গুর, কেন আমাদের মেজাজ অস্থির।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd