1. admin@dailyoporadh.com : admin :
সিঙ্গাপুর এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী, আর বাংলাদেশ ‘উদীয়মান নক্ষত্র’ - দৈনিক অপরাধ
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
(ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আটকাবস্থা থেকে দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচজনকে রোববার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪১তম বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক ছাত্রকে কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ভেরিয়েন্ট) ১১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লুটুথ প্রযুক্তিসংবলিত কোনো মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দেবে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ডিসেম্বরের শুরুতে এটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের কম ভাড়ায় চলাচল নিশ্চিত করা উচিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে

সিঙ্গাপুর এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী, আর বাংলাদেশ ‘উদীয়মান নক্ষত্র’

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ থেকে উড়োজাহাজে চেপে সরাসরি সিঙ্গাপুর যেতে ঘণ্টা কয়েক সময় লাগে। দূরত্ব দেড় হাজার নটিক্যাল মাইলের কিছুটা বেশি। সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয় ১৯৬৫ সালে। তার ছয় বছরের মাথায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরকে একসময় ‘জেলেপল্লি’ বলা হতো। অন্যদিকে বাংলাদেশকে বলা হতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। সেই সিঙ্গাপুর এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী। আর বাংলাদেশ ‘উদীয়মান নক্ষত্র’।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্বাধীনতা অর্জনের ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সিঙ্গাপুর কীভাবে বিশ্বের প্রথম সারির ধনী দেশ হয়ে উঠল? আর কেনই-বা বাংলাদেশ এখনো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে? সিঙ্গাপুরের মতো বাংলাদেশ কবে ধনী দেশের ক্লাবে নাম লেখাতে সক্ষম হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে বর্তমান সময়ের শীর্ষস্থানীয় ধনী দেশগুলোর নাম চট করে দেখে নেওয়া যাক।

শীর্ষ ১০ ধনী দেশ
২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ বিশ্বের ১০টি ধনী দেশের তালিকা করেছে। এগুলো যথাক্রমে লুক্সেমবার্গ, সিঙ্গাপুর, আয়ারল্যান্ড, কাতার, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রুনেই দারুসসালাম, হংকং ও ডেনমার্ক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গত এপ্রিলের তথ্যের ভিত্তিতে গ্লোবাল ফিন্যান্স ম্যাগাজিন অনুরূপ একটি তালিকা করেছে।

সিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের তালিকা অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০টি দেশ হলো লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও কাতার।

ধনী দেশ পরিমাপের উপায়
একটা দেশ ধনী কি না কিংবা কতটা ধনী, তা বোঝার জন্য অনেকে প্রাথমিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বিবেচনায় নেয়। কিন্তু জিডিপির সমস্যা হলো, তা একটা দেশের অর্থনীতির সঠিক চিত্র তুলে ধরে না। একটি দেশের মানুষ কেমন আছে, কেমন তাদের জীবনযাত্রার মান, তা উপস্থাপনে জিডিপি ব্যর্থ।

মোট জিডিপিকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে (মাথাপিছু জিডিপি) ধনী দেশ পরিমাপের চেষ্টা কেউ কেউ করে থাকে। তবে এ পদ্ধতিও নিখুঁত নয়। কেননা, এখানে আয়ের বৈষম্যের দিকটি ধরা পড়ে না।

কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ
২০১৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ওয়েবসাইটে ‘দেয়ার কুড বি আ নিউ “এশিয়ান টাইগার”, হেয়ারস হোয়াই’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এ নিবন্ধে এশিয়ার নতুন বাঘ হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাবের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।

স্বাধীনতা-উত্তর দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৮৮ ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এখন তা ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার (নতুন ভিত্তি বছর ধরে এখন তা ২ হাজার ৫৫৪ ডলার)। দেশের জিডিপির পরিমাণ বেড়ে এখন হয়েছে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর ৪ নভেম্বর দিন শেষে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়, যা ২০১০ সালে ছিল মাত্র ৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে সব মিলিয়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের চেয়ে তা ৩৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের মোট আয় হয় ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, করোনার বছরে কোটি টাকার বেশি আছে—এমন ১০ হাজার নতুন ব্যাংক হিসাব যুক্ত হয়েছে দেশের ব্যাংকব্যবস্থায়। আর ৫০ কোটি টাকার ওপরে আমানত রেখেছে—এমন হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯০।

আইএমএফের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১ সালে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ ডলার, যা ভারতের চেয়ে বেশি। ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ৪৪৪ ডলার।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) ১০ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজ বুলেটিনে বলেছে, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ৩০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি জিডিপি নিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতি। দারিদ্র্য হ্রাস করার ক্ষেত্রেও বিশ্বসেরাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

চলতি মাসের শুরুর দিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বার্ষিক গ্লোবাল রিসার্চ ব্রিফিংয়ে ব্যাংকটির দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিবিদ সৌরভ আনন্দ বলেন, ২০২১–২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছর নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার হতে পারে ৫০০ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় উন্নীত হতে পারে ৩ হাজার ডলারে।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২১’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি।

বাংলাদেশ যেভাবে ধনী হতে পারে
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই ধনী দেশ হতে পারবে। ৩০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। বাংলাদেশ ক্রমাগত নিজের জায়গায় উন্নতি করছে। এ উন্নতি ঠিক কাউকে ছোঁয়ার জন্য নয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের ভূমিকা ও বিশ্বমুখীন চিন্তা উন্নয়নে অবদানে রাখছে। বাংলাদেশ একটি ম্যানুফ্যাকচারিং দেশে পরিণত হচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশের আরও উন্নতি হবে। তবে ধনী হতে হলে উন্নয়নের বর্তমান ধারণা ভেঙে সামনে অগ্রসর হতে হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে জাতির সামগ্রিক, বৈষয়িক, আত্মিক ঐশ্বর্যনির্ভর উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়নের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একসময় বাংলাদেশের অবস্থার খুব বেশি পার্থক্য ছিল না বলে জানান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, ‘ওই দেশগুলো অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে মানব উন্নয়নকে যুক্ত করে অগ্রসর হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তারা ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা নিয়েছে। তার বাস্তবায়ন করেছে। আমাদেরও ওই দেশগুলোর মতো ভালো করার সুযোগ ছিল। এখনো আছে। এ জন্য আমাদের বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার আনতে হবে। অর্থনীতির বহুমুখীকরণ করতে হবে। অর্থনীতির সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়াবলিও একটা চমৎকার সমন্বয় দরকার।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারপারসন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ যে একদিন ধনী রাষ্ট্র হবে, এ ব্যাপারে তিনি খুবই আশাবাদী। তিনি বাংলাদেশকে একটি নাগরিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

উন্নয়ন অর্থনীতির গবেষক ও অ্যাকটিভিস্ট মাহা মির্জা অবশ্য ‘ধনী রাষ্ট্র’ ধারণার সঙ্গেই একমত নন। তিনি বলেন, জিডিপি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক মানদণ্ডে একটা দেশ প্রচলিত অর্থে ধনী হতে পারে। কিন্তু এখানে দেখার বিষয় হলো সম্পদের সুষম বণ্টন হলো কি না। যদি গুটিকয়েক গোষ্ঠীর কাছে সম্পদ কুক্ষিগত থাকার মধ্য দিয়ে একটি দেশ ধনী হয়, তবে তা একদিকে অর্থহীন, অন্যদিকে অশ্লীলও। অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সার্বিক দিক দিয়ে সমতা প্রতিষ্ঠিত হলে তবে তা একটি দেশের জন্য ইতিবাচক। জিডিপির চর্চা নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীবনমানসহ সামগ্রিক ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়, সে ক্ষেত্রেও তাকে প্রকৃত সমৃদ্ধি বলা যাবে। সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে এ পথেই হাঁটতে হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd