1. admin@dailyoporadh.com : admin :
করোনা টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইনে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কম দেখা গেছে - দৈনিক অপরাধ
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
(ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আটকাবস্থা থেকে দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচজনকে রোববার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪১তম বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক ছাত্রকে কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ভেরিয়েন্ট) ১১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লুটুথ প্রযুক্তিসংবলিত কোনো মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দেবে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ডিসেম্বরের শুরুতে এটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের কম ভাড়ায় চলাচল নিশ্চিত করা উচিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে

করোনা টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইনে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কম দেখা গেছে

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩০ বার পঠিত

করোনা টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইনে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কম দেখা গেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ৬৬ লাখ ২৫ হাজার মানুষ। ২৮ অক্টোবর তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দিন ঠিক ছিল। ওই দিন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার মানুষ। সাড়ে ২৩ লাখ বা ১৭ শতাংশ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নিতে যাননি।

এই বিপুলসংখ্যক মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নিতে না আসায় টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে করোনা টিকার ব্যাপারে সরকারের প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি আছে। টিকার ব্যাপারে সঠিক তথ্যও মানুষ পাচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় টিকার ব্যাপারে হয়তো মানুষের আগ্রহও কমে যেতে বসেছে।

সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে টিকার ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা কম হয়েছে। অনেক মানুষ জানেনই না তাঁদের কখন টিকা নিতে হবে। তাই বিরাটসংখ্যক মানুষ দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসেননি। দ্বিতীয়ত, করোনার প্রকোপ কমে আসার কারণে অনেকে হয়তো মনে করছেন, টিকার আর প্রয়োজন নেই।’

অপরদিকে প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার ১৭ জন। অন্যদিকে নিবন্ধন করে টিকার অপেক্ষায় আছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭১৫ জন।

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদান শুরু হওয়ার কথা ১ নভেম্বর। এতে প্রয়োজন হবে বাড়তি জনবল। এ অবস্থায় এর আগে নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের টিকাদান আরও বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২ শতাংশের নিচে। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও দুই অঙ্কের নিচে দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে জটিলতা

টিকাদানে গতি আনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত টিকাদান ছাড়াও বিশেষ দুটি ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। প্রথম ক্যাম্পেইন হয় ৭ আগস্ট। দ্বিতীয় ক্যাম্পেইন ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ঘিরে।

ক্যাম্পেইনের সময় স্বাস্থ্য বিভাগ ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর মোট ৭৮ লাখ ১১ হাজার ২১৬ জনকে তারা সিনোফার্মের প্রথম ডোজ টিকা দিয়েছিল। এর মধ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর দিয়েছিল ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ১২৩ জনকে।

ক্যাম্পেইনের সময় নিয়মিত করোনা টিকাকেন্দ্রের বাইরে দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন, ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভার ওয়ার্ড ও ১২টি সিটি করপোরেশনের ৪৩৩টি ওয়ার্ডে টিকার বুথ করা হয়।

সিনোফার্মের টিকার কার্যকারিতা রক্ষার জন্য প্রথম ডোজ নেওয়ার চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। সেই হিসেবে ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ-ও বলেছিল যে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ডোজ নেওয়া সবাই ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন। কিন্তু সবাই টিকা নিতে আসেননি। অর্থাৎ নির্ধারিত দিনে টিকা নিতে সাড়ে ২৩ লাখের বেশি মানুষ অনুপস্থিত ছিলেন।

এই অনুপস্থিতি ছিল সব জেলাতেই। যেমন ২৮ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলায় প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৯০০ জন। ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৮০ হাজার ৯০৩ জন। অর্থাৎ প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ অনুপস্থিত ছিলেন। জাতীয়ভাবে তা ১৭ শতাংশের বেশি।

খুলনা জেলার দক্ষিণের একটি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার কয়েকটি ইউনিয়নে নিয়মিত ইপিআই থাকায় সেসব ইউনিয়নে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়নি। আজ শনিবার দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের একজন সিভিল সার্জন বলেছেন, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানোতে বিলম্ব হয়েছে বা মানুষ বিলম্বে পেয়েছেন। তাই মানুষ ঠিক সময়ে আসেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব শামসুল হক  বলেন, ‘রুটিন ইপিআই থাকায় অনেক স্থানে করোনার টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করি শনিবার সবাই দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে আসবেন।’

তবে টিকার জন্য মাঠপর্যায়ে কোনো প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়নি। গ্রামগঞ্জ, শহর বা মহানগরে মাইকিং শোনা যায়নি বা ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায়নি। গণমাধ্যমগুলো নিজেদের উদ্যোগে সংবাদ প্রচার করেছে। করোনা টিকাদানের শুরুতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকাদানের কথা প্রচার করতেন। এখন সেটিও অনেক কমে এসেছে।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, টিকা নেওয়ার জন্য জোর প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত। দ্বিতীয় ডোজের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। পূর্ণ দুই ডোজ না নিলে সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না। এটি ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd