1. admin@dailyoporadh.com : admin :
যাওয়ার পথটা দ্রুত সুগম করতে হবে, যত দেরি হবে, প্রত্যাবাসন ততটাই জটিল হয়ে পড়বে: পররাষ্ট্রসচিব - দৈনিক অপরাধ
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে

যাওয়ার পথটা দ্রুত সুগম করতে হবে, যত দেরি হবে, প্রত্যাবাসন ততটাই জটিল হয়ে পড়বে: পররাষ্ট্রসচিব

জয়িতা দাস
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৩ বার পঠিত

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পরও মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবিকার নিশ্চয়তা নিয়ে রাখাইনে ফিরে যেতে চান। ফলে তাঁদের ফিরে যাওয়ার পথটা দ্রুত সুগম করতে হবে। যত দেরি হবে, প্রত্যাবাসন ততটাই জটিল হয়ে পড়বে।

গতকাল রোববার পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর কক্সবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে এ অভিমত দিয়েছেন। তিনি শুক্র ও শনিবার কক্সবাজার গিয়ে মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে জানা–বোঝার চেষ্টা করেন।

মূলত কক্সবাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রত্যাবাসনের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ভাসানচরে অবশিষ্ট ৮১ হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার আগে তিনি সেখানে যান।

পররাষ্ট্রসচিব তাঁর দপ্তরে বলেন, ‘মুহিবুল্লাহ হত্যার মতো বিয়োগান্ত ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। মুহিবুল্লাহর পরিবার, তাঁর স্বজন এবং সংগঠনের নেতা–কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি। শিবিরের ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিবিরের লোকজন ভয়ও পেয়েছেন।’

মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কি না, জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ফিরে যাওয়ার পথটা যদি দ্রুত সুগম করে দিতে পারি, তবে তাদের এখনো ফেরত পাঠানো যেতে পারে বলে মনে করি। তাঁর (মুহিবুল্লাহ) মৃত্যু যে প্রত্যাবাসনে বড় বাধা হয়ে গেল, সেটা বোধ হয় না। লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তারা আদি নিবাসে ফিরে যেতে আগ্রহী। কক্সবাজারের অপরাধীসহ যেসব স্বার্থান্বেষী মহল, তারা নিজেদের আরসা বলতে চায়। আসলে তারা দুষ্কৃতিকারী। রাজনৈতিক ও আদর্শিক কোনো ভিত্তি নেই বললেই চলে। যতই দিন যাবে, প্রত্যাবাসনটা জটিল হয়ে যাবে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আজ যারা এখানে জন্মাচ্ছে, তারা তো মিয়ানমার সম্পর্কে জানে না। সুতরাং এই জনগোষ্ঠীটা রাখাইনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়বে। কিছু লোক দিয়ে হলেও যাতে শুরু করা যায়, সেটা করতে হবে। ১০ বা ১১ লাখকে অল্প সময়ের মধ্যে পাঠানো যাবে তা কিন্তু নয়।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়ানো দরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আরও সজাগ দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন। এ জন্য রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের পরের বৈঠকটি কক্সবাজারে করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে করে বৈঠকে পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

মাসুদ বিন মোমেন জানান, আরও ৮১ হাজার রোহিঙ্গাকে নভেম্বর থেকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। যাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে আসছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে হবে কেন তাঁরা সেখান থেকে চলে আসছেন। আর জাতিসংঘ ভাসানচরে যাওয়ার পর সেখানকার মানবিক সহায়তা কর্মকাণ্ডে সেবার মান বাড়বে।

রোহিঙ্গাদের আনন্দ মিছিল

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ায় মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন গতকাল দুপুরে নোয়াখালীর দ্বীপটিতে আনন্দ মিছিল করেছেন। ভাসানচরে কাজ করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গত শনিবার একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

ভাসানচরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরে হাজারখানেক রোহিঙ্গা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে আনন্দ মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা জাতিসংঘের ভাসানচরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের চাপ কমাতে সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোয়াখালীর ভাসানচরকে তাঁদের বসবাসের উপযোগী করে তৈরি করে।

তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করে। এমনকি গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে সরিয়ে নেওয়ার ঠিক আগের দিন একটি বিবৃতি দিয়ে এর বিরোধিতা করা হয়।

সরকার এ পর্যন্ত ছয় দফায় ১৮ হাজার ৫২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে শিশু, নারী ও পুরুষের সংখ্যা যথাক্রমে ৮ হাজার ৭৯০, ৫ হাজার ৩১৯ ও ৪ হাজার ৪০৯।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd