1. admin@dailyoporadh.com : admin :
দেশের ইতিহাসে এত বেশি সাজা হওয়ার আর কারও নজির নেই, ১৪টি মামলার রায়ে তাঁর ২৩৬ বছরের সাজা - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি)

দেশের ইতিহাসে এত বেশি সাজা হওয়ার আর কারও নজির নেই, ১৪টি মামলার রায়ে তাঁর ২৩৬ বছরের সাজা

মেহেদী হাসান
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ছেলেকে ভর্তি করেছিলেন মা-বাবা অনেক স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই ছেলে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ায় পুরো পরিবার এখন বিধ্বস্ত। ছেলেটির নাম জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ। একে একে ১৪টি মামলার রায়ে তাঁর ২৩৬ বছরের সাজা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। দেশের ইতিহাসে এত বেশি সাজা হওয়ার আর কারও নজির নেই।

সবশেষ ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালতে বোমা হামলার মামলায় জাবেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এর আগে তাঁর সাজার পরিমাণ ছিল ২০৬ বছর। এখন ৩০ বছর যোগ হলো।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম খান  বলেন, এর আগে দেশে কোনো আসামির ২৩৬ বছরের সাজা হয়নি। বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে ৮৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি আছেন। এর আগে ১২০ বছর সাজা হয়েছিল আরেকজনের।

চট্টগ্রামে ১৪টি, কক্সবাজারে ২টি ও রাঙামাটির ১টি—মোট ১৭ মামলার মধ্যে ১৬ মামলার রায়ে জাবেদের এই কারাদণ্ড হয়। কারা সূত্র জানায়, জাবেদ ১৫ বছর আগে থেকে কারাভোগ করলেও এ পর্যন্ত হওয়া মামলার সাজায় তাঁকে আরও ১৫ থেকে ২০ বছর সাজা খাটতে হতে পারে।

কক্সবাজার সদর থানার খুরুসখুল এলাকার আবদুল আউয়ালের ছেলে জাবেদ। খরুসখুল দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০০০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০০২ সালে আলিম পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান থেকে আরবি বিভাগে চলে যান। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। কিন্তু ছেলে কীভাবে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন, জানেন না মা-বাবা। বাবা আবদুল আউয়াল প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯ বছর বয়সে সে (জাবেদ) জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বুঝতে পারেনি। এটা ইসলাম নয়। এগুলো ইসলামের বিরুদ্ধের পথ।’

আদালত সূত্র জানায়, জাবেদ ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হন। এরপর তিনি এই আইন মানেন না, ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠার জন্য জেএমবিতে যুক্ত হয়েছেন দাবি করে সাতটি বোমা হামলার মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাবেদের বিরুদ্ধে নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের বোমা হামলায় নগরের কোতোয়ালি থানার কাজীর দেউড়ি এলাকায় আবদুল হাই নামের একজন হকার আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল জেএমবির চট্টগ্রামের তৎকালীন সামরিক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদসহ আরেক জঙ্গিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বাকলিয়া, খুলশী, পাঁচলাইশ, হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং থানার সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় করা আটটি মামলার মধ্যে সাতটিতে জাবেদকে সাজা দিয়েছেন আদালত। এরপর একে একে ১৪ বছর, ১৬ বছর, যাবজ্জীবন, ১০ বছর, ২০ বছর, ৮ বছর, ৭ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. আইয়ুব খান  বলেন, বোমা হামলার একটি মামলা বিচারাধীন থাকাকালে জাবেদ নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন উল্লেখ করে আদালতে চার পৃষ্ঠার চিঠি দেন ২০১৩ সালে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এত দিন ভুল পথে ছিলেন। কেউ যাতে ইসলামের নামে এভাবে ভুল পথে পা না বাড়ায়। বিচার চলাকালে নিজের ভুল স্বীকার করে একাধিকবার আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জাবেদ ক্ষমা চান বলে জানান সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মনোরঞ্জন দাশ।

১৭টি মামলার মধ্যে ১৬ মামলায় সাজা হলেও জেল আপিল করেননি জাবেদ। সবশেষ যাবজ্জীবন সাজার আদেশের পর আপিল করবেন বলে জানান তাঁর বাবা আবদুল আউয়াল। অবসরপ্রাপ্ত এই স্কুলশিক্ষক  বলেন, বয়স কম থাকায় তাঁর ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ানো হয়েছে। কোনো মা-বাবা চান না ছেলে জঙ্গিবাদে জড়াক। এখন তাঁর ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকেও জানানো হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd