1. admin@dailyoporadh.com : admin :
ইয়াবা পাচারের যে নেটওয়ার্ক, তাতে বাংলাদেশ একই সঙ্গে ট্রানজিট ও গন্তব্য - দৈনিক অপরাধ
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইকবাল কার প্ররোচনায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন, তা বলেননি বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে

ইয়াবা পাচারের যে নেটওয়ার্ক, তাতে বাংলাদেশ একই সঙ্গে ট্রানজিট ও গন্তব্য

তন্ময়
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

প্রবেশগম্যতার দিক দিয়ে উত্তর কোরিয়ার চেয়ে কঠিন কোনো জায়গা বিশ্বে আছে কি? ঠাট্টাচ্ছলে কেউ কেউ বলে, আছে। তা হলো শান রাজ্য। শান রাজ্যের চেয়ে উত্তর কোরিয়ায় যাওয়া-আসা সহজ!

এমন ঠাট্টার নেপথ্যে অবশ্য বাস্তবিক কারণ আছে। আর সেই কারণ খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসে এক অন্ধকার জগতের চিত্র।

শান রাজ্যটি মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। রাজ্যের উত্তর সীমান্তে চীন। পূর্ব সীমান্তে লাওস। দক্ষিণ সীমান্তে থাইল্যান্ড। মিয়ানমারের এই রাজ্যে একাধিক সশস্ত্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী সক্রিয়।

শান রাজ্য গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের অংশ। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল হলো এমন এক এলাকা, যেখানে মিয়ানমারের সঙ্গে লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমানা মিশেছে। অর্থাৎ, মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের ত্রিসীমানা নিয়ে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল গঠিত। মাদক উৎপাদন ও চোরাচালানের জন্য গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল বিশেষভাবে পরিচিত।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলে আইনকানুনের বালাই নেই। এ কারণে সেখানে নির্বিঘ্নে মাদক উৎপাদন করা যায়। আবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা লুকিয়েও ফেলা যায়। বর্তমানে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এলাকার গভীর জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে ইয়াবা উৎপাদিত হয়।

ইয়াবা হলো মেথঅ্যাম্ফিটামিন-জাতীয় মাদক। ইয়াবা উৎপাদনের প্রধান উপাদান রাসায়নিক অ্যাম্ফিটামিন। এই উপকরণ চীন ও থাইল্যান্ড থেকে পাচার হয়ে মিয়ানমারে আসে। ট্যাবলেট আকৃতির ইয়াবা একাধিক রং ও গন্ধের হয়ে থাকে। ইয়াবা সস্তা ও নিম্নমানের মাদক। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলে মেথ-জাতীয় আরেকটি মাদক উৎপাদিত হয়, যেটি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস নামে পরিচিত। ইয়াবার চেয়ে আইস দামি। আইসের প্রতিক্রিয়াও অনেক বেশি।

আফিম-হেরোইন থেকে মেথ
একটা সময় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় ব্যাপকভাবে আফিম ও হেরোইন উৎপাদন করা হতো। কিন্তু গত শতকের শেষ দিকে মাদক উৎপাদনকারী–কারবারিরা ক্রমেই আফিম ও হেরোইন থেকে মেথঅ্যাম্ফিটামিন-জাতীয় মাদক (ইয়াবা, আইস) উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের তথ্যমতে, গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলে আফিম-হেরোইনের উৎপাদন কমছে। সেই স্থান দখল করে নিচ্ছে মেথঅ্যাম্ফিটামিন-জাতীয় মাদক। কারণ, এ-জাতীয় মাদক উৎপাদন ও পরিবহন সহজ ও নিরাপদ। এই মাদক উৎপাদনের ব্যয় কম। কিন্তু লাভ বেশি।

মাদকের উত্তরাধিকার
দশকের পর দশক ধরে মাদক ও মিয়ানমার পরস্পরের সমর্থক। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলেছে।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেকং উপ-অঞ্চল এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অংশে জব্দ মেথঅ্যাম্ফিটামিন-জাতীয় মাদকের মূল উৎস দেশ হিসেবে মিয়ানমারকেই ধরা হয়।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিনিধি জেরেমি ডগলাসের ভাষ্যমতে, তাঁরা যা দেখছেন, তার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, মিয়ানমার সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেথ উৎপাদক। এক দশক ধরে মিয়ানমারে মেথের উৎপাদন বেড়ে চলছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে উৎপাদনের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে নয়াদিল্লিভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান পলিসি পার্সপেকটিভস ফাউন্ডেশনের পরামর্শক বৈশালী বসু শর্মা উল্লেখ করেন, ইয়াবা উৎপাদনের সর্বাধিকসংখ্যক গোপন ল্যাবরেটরি রয়েছে মিয়ানমারে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যে বিপুল পরিমাণ মেথ-জাতীয় মাদক জব্দ হচ্ছে, তার একটা বড় অংশের উৎস মিয়ানমারের শান রাজ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া অধিকাংশ ইয়াবা উৎপাদিত হয় শান রাজ্যে।

ইয়াবার ঝড়
শান রাজ্যসহ গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় যে পরিমাণে মেথঅ্যাম্ফিটামিন-জাতীয় মাদক উৎপাদিত হচ্ছে, তার ব্যাপকতা বোঝাতে তাকে ‘ঝড়ের’ সঙ্গে তুলনা করছেন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্সের সাবেক প্রধান জন কোয়েন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট নামের চিন্তন প্রতিষ্ঠানে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, এ-জাতীয় মাদক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে একটা মহামারির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ইয়াবার রাজ্য
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির বেশ কিছু নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করে। এই চুক্তির ফলে কিছু কিছু গোষ্ঠী তাদের আওতাধীন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের নজরদারি খুব কম কিংবা একেবারেই নেই। শান রাজ্যের পরিস্থিতিও এমন। এলাকাটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের কর্মতৎপরতা চালাতে মাদক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে আসছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মাদক উৎপাদন ও পাচার নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের এই কাজের অংশীদার বিদেশি অপরাধী চক্রগুলো। তারা এখন মেথঅ্যাম্ফিটামিন-জাতীয় মাদক উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

ইয়াবার বিস্তার
বছরের পর বছর ধরে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও অনুন্নত এলাকা ছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন। এখানে চীনেরও ‘কৃতিত্ব’ আছে। দেশটির বহুল আলোচিত ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ উদ্যোগ এই অঞ্চলের মাদক কারবারিদের জন্য ‘সুফল’ নিয়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্সের সাবেক প্রধান জন কোয়েনের মতে, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন মাদক পাচারের পথ সহজ করে দিচ্ছে। এ কারণে মিয়ানমারের শান রাজ্যের দুর্গম এলাকা থেকে সহজেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অংশে মাদক পরিবহন করা যাচ্ছে। চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশ পর্যন্ত ইয়াবা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশে অহরহ ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে।
গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd