1. admin@dailyoporadh.com : admin :
অশ্লীলতা ঠেকাতে গিয়ে কাশবনে আগুন দিয়ে আইন ভাঙার ঘটনা - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

অশ্লীলতা ঠেকাতে গিয়ে কাশবনে আগুন দিয়ে আইন ভাঙার ঘটনা

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪২ বার পঠিত

শরৎকালটা বেশ ছিমছাম সুন্দর। সূর্যের আলোয় ঝলমল করে চারদিক। আর নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় স্নিগ্ধ সাদা মেঘের ভেলা। সেই স্নিগ্ধতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৃদু বাতাসে দোল খায় কাশফুল। মন ভালো করা এসব দৃশ্য উপভোগ করতে মানুষ ছুটে যায় কাশবনে। মনের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন এই দেশে এগুলো মোটেও ভালো কোনো কাজ না, রীতিমতো অশ্লীলতা! অন্তত সিলেটের গোলাপগঞ্জে সম্প্রতি কাশবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা সেই কথাই প্রমাণ করে।

প্রথম আলোসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গোলাপগঞ্জের চৌঘরী এলাকার এক ব্যক্তির জমিতে প্রচুর কাশফুল হয়েছে। সেই কাশবন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছিলেন। সঙ্গী কখনো স্বজন, কখনো বন্ধু-বান্ধব। মানুষের কাশবন দেখার এত আনন্দ-আহ্লাদ স্থানীয় লোকজনের ভালো লাগেনি। তাঁরা কাশবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এই আগুন ধরিয়ে দেওয়াটা বৈধ করতে চরিত্র ধরে টান দিয়েছেন তাঁরা। আরও খুলে বললে ‘অশ্লীল, অসামাজিক’ শব্দগুলো বলেছেন।

আমরা তো শুদ্ধ জাতি! আমরা কোনো অশুদ্ধতা-অশ্লীলতা একেবারে মেনে নিতে পারি না। তবে আমরা ঘুষ খেতে পছন্দ করি। ঘুষের টাকায় জমি, বাড়ি, গাড়ি, দামি সব জিনিস কিনে বুক ফুলিয়ে চলতে পারি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারি। পর্ণ সাইট দেখতে পারি। ‘শুদ্ধ’ মানুষ হিসেবে আমাদের দেখার কথা না থাকলেও নায়িকাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবিগুলো মন দিয়ে দেখি। দেখতে খুব সুখ লাগে। কিন্তু এই গোপন সুখের কথা তো মানুষকে বলা যায় না। বললে জাত চলে যাবে না? লোকে কী আর ‘শুদ্ধ’ মানুষ বলবে আমাদের! ফলে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ওই সব ছবির মানুষের চরিত্র ধরে টান দিয়ে বাজে বাজে সব মন্তব্য করা। আমাদের মনটা অশ্লীলতায় ভরা তো কী হয়েছে, ‘শুদ্ধ’ মানুষ হিসেবে অন্যকে শালীনতার জ্ঞান দেওয়া আমাদের মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য।

এই যে আমরা কথায়-কথায় ‘অশ্লীল’, ‘অসামাজিক’ শব্দগুলো বলি, কেন বলি? অশ্লীলতা-অসামাজিকতার সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দেয়? উত্তরে হয়তো আসবে সমাজের নাম। সমাজ তো আকাশ থেকে টুপ করে পড়া কিছু না। আমরা যা, সেটাই সমাজ। আমাদের চেহারা যেমন হবে, আয়নায় আমরা তেমন সমাজের ছবিই দেখতে পাব। আর এ কারণেই আমরা দেখতে পাই, ‘মুখে এক আর মনে আরেক’ একটা গোষ্ঠী। আমরা যদি আসলেই ‘শুদ্ধ’ মানুষ হতাম তবে ঘরে-বাইরে কোনো মেয়েকে যৌন হয়রানির মুখে পড়তে হতো না, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ করা হতো না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা ‘কিন্তু’ ‘তবে’ এমন দ্বিধান্বিত থাকতাম না, নারী-বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখলে সিটটা ছেড়ে দিয়ে বসতে দেওয়ার মতো ভদ্রতা দেখাতাম, অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য আত্মসম্মানহীন তেলবাজ হতাম না।

আমরা শালীন, সামাজিক, সভ্য মানুষ হলে অন্যের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতাম। আমাদের সংবিধানে এটাকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ ‘আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না’ মর্মে ঘোষণা দিয়েছে। ব্যক্তি কোথায় ঘুরতে যাবেন, কার সঙ্গে যাবেন; এটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এটা নিয়ে আমরা তাঁকে বিরক্ত, বিব্রত করতে পারি না। ব্যক্তির কোনো আচরণ যদি উৎপাতের সৃষ্টি করে, আমরা আইনের শরণাপন্ন হতে পারি। কিন্তু কোনোভাবেই নিজেরা ‘নৈতিক পুলিশ’ সেজে শাস্তি দিতে পারি না। এটা রীতিমতো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো। কাশবনে কথিত অশ্লীলতা ঠেকাতে গিয়ে আমরা আইন ভেঙেছি। আমরা মোটেও সুনাগরিকের পরিচয় দিইনি।

এই যে কাশবনে ‘অশ্লীল কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ আনা হলো, সেখানে গিয়ে মানুষ আসলে কতটা খারাপ কাজ করতে পারে? নিশ্চয় ছবি তুলে, বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে গল্প করে, প্রেমিক বা প্রেমিকা হাত ধরে ঘুরে বেড়ায়। যে জায়গায় এত এত মানুষ যায়, সেখানে এর চেয়ে বেশি মানুষ কী করতে পারে! যদি এর চেয়ে বেশি কিছু এখানে ঘটে থাকে স্থানীয় লোকজন সেটা পুলিশকে জানাতে পারত। কিন্তু কথিত অশ্লীলতা ঠেকাতে গিয়ে কাশবনে আগুন দিয়ে আইন ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। কাশবন তো আর কোনো ‘অশ্লীল কাজ’ করেনি। কেন তাকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো? অথচ চাইলেই সুন্দর এই কাশবন ঘিরে ছোটখাটো একটা মৌসুমি পর্যটনব্যবসা করা যেত। টিকিটের ব্যবস্থা, কাছেই বসে চা-পানি পানের মতো আয়োজন, টাকার বিনিময়ে ছবি তোলার সুযোগ ইত্যাদি বেশ পর্যটকবান্ধব হতো। স্থানীয় অর্থনীতিতে টাকার আনাগোনা বাড়ত।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd