1. admin@dailyoporadh.com : admin :
শুধু বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্‌ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না - দৈনিক অপরাধ
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইকবাল কার প্ররোচনায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন, তা বলেননি বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে

শুধু বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্‌ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৩ বার পঠিত

বিজ্ঞাপনবিহীন বা ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল প্রচারের বিপক্ষে না বলে জানিয়েছেন কেব্‌ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতারা। তবে কোয়াব নেতারা আশঙ্কা করছেন, শুধু বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্‌ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না। গ্রাহকেরা তাঁদের নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবেন। এতে দ্রুত গ্রাহক কমে যাবে। কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একপর্যায়ে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হবে।

সরকারি সিদ্ধান্তে ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল বন্ধ রাখার পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘সরকার যে অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অভিভাবক। কেব্‌ল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন করছি, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যেসব বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেই চ্যানেলগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে ব্যাপারে যেন তিনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’

২০০৬ সালের কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি সংশোধনের দাবি জানান কোয়াবের সভাপতি আনোয়ার পারভেজ। তিনি বলেন, ‘২৫ বছরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আমাদের এই কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রি। এখানে আমাদের চার লাখ মানুষের রুটিরুজির বিষয় জড়িত। ইউটিউবের রমরমা অবস্থা। যেসব বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে, সেসব চ্যানেল তাদের প্রতিটি সিরিয়াল সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে আপলোড করে দিচ্ছে। সেখানে কিন্তু বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন ইউটিউবে যাচ্ছে।

এই টাকাটা কিন্তু চলে যাচ্ছে ইউটিউব কোম্পানির কাছে। দেশের বাইরে থেকে অনেকগুলো অ্যাপস চলছে। হইচই, নেটফ্লিক্স, আমাজন, হট স্টার, জি-ফাইভ এরা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গ্রাহক নিচ্ছে। কোনো বৈধ উপায়ে তারা গ্রাহক নিচ্ছে না। এরা কিন্তু গ্রাহকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা নিয়ে যাচ্ছে।’

বিদেশি চ্যানেল বন্ধ থাকলেও গ্রাহক বসে থাকবেন না বলে মন্তব্য করে কোয়াব সভাপতি, ‘মানুষ কিন্তু বসে থাকবে না। সুইচ করবে, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাবে। এই সুইচ করার সুযোগে কেব্‌ল টিভি নেটওয়ার্কের ব্যবসা যদি রাস্তায় বসে যায়, আমরা যদি এই সেক্টরে জড়িত মানুষকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিই, তাহলে এর দায়ভার কে নেবেন?’

বিদেশি চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহক হারিয়ে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হবে বলে মনে করেন কোয়াবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম সাইফুল হোসেন। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি যুগোপযোগী করার দাবি জানান সাইফুল হোসেন। কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন মনে করেন, ‘গ্রাহকেরা আছেন বলে আমরা গ্রাহকেরা কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায় আছি। যাঁরা টেলিভিশন ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাঁরা এই ব্যবসায় টিকে আছেন। ২০০৬ সালের কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি যখন হয়, তখন কেব্‌ল টিভির যে প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক টেকনোলজিক্যাল যে প্রেক্ষাপট ছিল, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সেই সময় ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণ ছিল না। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেল প্রচারিত হতো না। ইউটিউবের এত গ্রাহক ছিল না বা ইন্টারনেটের এত গ্রাহক ছিল না।’

শুধু ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে এ বি এম সাইফুল হোসেন বলেন, ‘দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার জন্য কেব্‌ল টিভি একমাত্র মাধ্যম না। এখন নেটফ্লিক্স, হইচই—এ রকম হাজারো প্ল্যাটফর্ম আছে, যার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমের কনটেন্ট সরাসরি কাস্টমারের কাছে যাবে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করা কেব্‌ল অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্লিন ফিড তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্রডকাস্টার ক্লিন করে সেই ফিডটাকে প্রবাহিত করবেন। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, একজন কেব্‌ল অপারেটর হিসেবে কখনো আমি গ্রাহকের কাছে ক্লিন ফিড কনটেন্ট দিতে পারব না।’

সাইফুল হোসেন মনে করেন, ‘২০০৬ সালে যখন আইনটি হয়, তখন যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতো, তাহলে এখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সবগুলো বিদেশি চ্যানেল বাদ দিয়ে ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহকেরা আমাদের সঙ্গে থাকবে না। সেই গ্রাহক কোনো না কোনোভাবে বিনোদনের চাহিদা পূরণ করবেন। সেটা হোক ইউটিউবের মাধ্যমে, সেটা হোক ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিংবা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে।

যেকোনা মাধ্যমে গ্রাহক তার চাহিদা পূরণ করে নেবে। কেউ নেটফ্লিক্স দেখবে, কেউ জি-ফাইভ দেখবে। কনটেন্ট তার কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু কনটেন্টের যে মাধ্যম, যে মাধ্যম দিয়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসছিল, সেই মাধ্যমকে যখন আমরা বাধাগ্রস্ত করছি, তখন গ্রাহক অন্য দিকে চলে যাবে। খুব বেশি সময়ও লাগবে না। তার অর্থ এই দাঁড়াবে, একজন কেব্‌ল অপারেটর তাঁর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবেন। তাঁর গ্রাহকসংখ্যা হারাবেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।’

বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য জানিয়ে কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন বলেন, ‘ক্লিন ফিড আমরা অবশ্যই চাই। আমরা ক্লিন ফিডের বিপক্ষে না। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, আইন অনুযায়ী আমাদের ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান আমাদের কাছে সরবরাহ করা হোক। ডিস্ট্রিবিউটররা সে মোতাবেক ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমি নিজেও ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপ করেছি।

বাংলাদেশের মার্কেটে ব্যবসার যে আকার, বাংলাদেশ থেকে যে রেভিনিউ (রাজস্ব) তারা পাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে ক্লিন ফিড কনটেন্ট সরবরাহ করা তাদের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। যদি ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়ন হয়, তখন বাজারের আকার ৫০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে। তখন তারা ক্লিন ফিড কনটেন্ট দেবে। তখন আমরা তাদের পাল্টা প্রশ্ন করলাম, এটা আমার সরকারের আইন। আমাকে যদি বিজনেস করতে হয়, তাহলে ক্লিন ফিড করে বিজনেস করতে হবে। তখন তারা আমাদের বলেছে, আমাদের সময় দিতে হবে।

সময় এ জন্য দিতে হবে, করোনায় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা আছে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করতে গেলে ৫০০, সাড়ে ৫০০ কন্ট্রোল রুমের যে বক্স সরবরাহ করা আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। স্যাটেলাইটের ফিড চেঞ্জ করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে। একটা যৌক্তিক সময় নির্ধারণের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি যদি চলমান থাকে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে আর ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কোয়াবের সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক কেব্‌ল অপারেটর ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd