1. admin@dailyoporadh.com : admin :
১২ প্রতিষ্ঠানের কাছে সব মিলিয়ে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের পাওনা কত, তার কোনো হিসাব নেই - দৈনিক অপরাধ
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে

১২ প্রতিষ্ঠানের কাছে সব মিলিয়ে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের পাওনা কত, তার কোনো হিসাব নেই

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৭ বার পঠিত

শুধু ইভ্যালি বা ই-অরেঞ্জ নয়, দেশের অন্তত ১২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কেনা পণ্য দিচ্ছে না। টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে পাওনার বিপরীতে ব্যাংকের চেক দিয়েছে। তবে ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকায় তা ফেরত আসছে।

এই ১২টি প্রতিষ্ঠান যে টাকা দিচ্ছে না, তা বলছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীরা। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, নিরাপদডটকম ও এসপিসি ওয়ার্ল্ড রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর বাইরে এখনো মামলা হয়নি এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৭টি—আলেশা মার্ট, কিউকম, দালাল প্লাস, আদিয়ান মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ ও প্রিয় শপ।

এই ১২ প্রতিষ্ঠানের কাছে সব মিলিয়ে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের পাওনা কত, তার কোনো হিসাব নেই। কোনো সরকারি সংস্থা এখনো সে হিসাব করেনি। তবে পুলিশ, র‌্যাব, গ্রাহক ও মালিকপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের ৩ হাজার ১২১ কোটি টাকা পাওনার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ইভ্যালির ৯৫০ কোটি, ই-অরেঞ্জের ১ হাজার ১০০ কোটি, ধামাকার ৮০৩ কোটি ও এসপিসি ওয়ার্ল্ডের ২৬৮ কোটি টাকা দেনার তথ্য রয়েছে।

গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীরা পাওনা টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিক্ষোভ করছেন। তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, সেগুলো বন্ধ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা এটুআই (বর্তমানে অ্যাসপায়ার টু ইনোভেশন) প্রকল্পের কোনোভাবেই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

কেন দায় এড়ানোর সুযোগ নেই তা খুঁজতে ফিরে যেতে হবে দুই বছর আগে। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ‘বেসরকারি খাত উন্নয়নে নীতি সমন্বয় কমিটি’ নামে একটি কমিটির সভায় ই-কমার্স নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

ওই বৈঠকে বলা হয়, ই-কমার্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও এটুআই যৌথভাবে ‘এসক্রো সেবা’ চালু করবে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা পাবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। তার আগে জমা থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছে।

তখন কেন এসক্রো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো না—জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে  বলেন, ‘এ দায় আমাদের নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে গত ২৭ জুন, ৩০ জুন আমরা প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। আগে চিঠি দিলে আগেই করতাম।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠকে জাতীয় উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব নীতিমালায় ই-কমার্সকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ই-কমার্স ব্যবসার সুরক্ষার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগকে। কিন্তু তখন সব দপ্তরই যার যার কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীনকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অনুরোধ জানায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাতেও গা করেনি। জাফর উদ্দীন এখন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলো না—জানতে চাইলে গতকাল তিনি বলেন, ‘কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ এটুআইয়ের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আবদুল মান্নানও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই ফাঁকে ঘটে গেছে অনেক ঘটনা। ইভ্যালির মতো করে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এখন ১৬টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার নিয়ে অনুসন্ধান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বাইরে আরও ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করছে।

সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, তথ্য চেয়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইভ্যালির দেখানো পথেই অন্যরা

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধন দিয়ে ব্যবসা শুরু করে ইভ্যালি। বিপুল ছাড়ে তরুণদের পছন্দের বিভিন্ন পণ্য বিক্রির লোভ দেখিয়ে তারা অল্প সময়েই ফুলেফেঁপে ওঠে। একই পথে হেঁটেছে ধামাকা, কিউকম, ই-অরেঞ্জ, দালাল প্লাস, আদিয়ান মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, প্রিয় শপ, নিরাপদ ডটকম, এসপিসি ওয়ার্ল্ডসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক ব্যবসা কৌশল যখন রমরমা, তখন বিতর্কিত বহুস্তর বিপণন পদ্ধতিতে (এমএলএম) ব্যবসা করার অভিযোগ নিয়ে ২০২০ সালের আগস্টে তদন্ত কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তারা সাতটি সংস্থাকে চিঠি দিয়ে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এক মাসের জন্য ইভ্যালির হিসাব স্থগিত করে। স্থগিতাদেশ আর বাড়ায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করে প্রতারণার আলামত পেলেও কোনো মামলা করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শনের কাজ শুরু করে অনেক পরে। চলতি বছরের ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয়ের অসংগতি ব্যাপক। যে সম্পদ রয়েছে, তা দিয়ে ১৬ শতাংশ গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ সম্ভব।

অবশেষে গত ৩০ জুন চালু হয় আগে পণ্য হাতে পেয়ে টাকা ছাড়ের ব্যবস্থা, যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০১৯ সালের নভেম্বরেই। এরপরই গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কোটি কোটি টাকা পাওনার বিষয়টি বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
প্রশংসা করেছিলেন তাঁরা

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এখন জেলে। তবে গত ৮ নভেম্বর ইক্যাবের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদক পায় ইভ্যালি। ইভ্যালিই ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠান একসময় বাংলাদেশের আলিবাবা, আমাজন হবে।

গ্রাহকেরা বলছেন, মন্ত্রীরা ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করছেন দেখে তাঁরা আস্থা পেয়েছিলেন, বিনিয়োগ করেছিলেন। তাই মন্ত্রীদেরও দায় নিতে হবে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে ফোন করে, খুদে বার্তা দিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে এবং জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ই-মেইল করেও জুনাইদ আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড ‘ধামাকা’ নামের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খুলে ৮০৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দাবি করে মামলা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক জসিম উদ্দিন চিশতী, তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রোকসানা খানম ও তিন সন্তান। গত ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘রুরাল টু গ্লোবাল ই-কমার্স পলিসি কনফারেন্স’-এর দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘ধামাকা উদ্যোক্তা অ্যাপ’ উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

যোগাযোগ করা হলে মোস্তাফা জব্বার গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অ্যাপ নিজে খারাপ না এবং যেকোনো ধরনের অ্যাপ বানানোতেই আমরা উৎসাহ দিই। লোভে পড়ে কেউ ক্ষতির শিকার হলে তো অ্যাপ উদ্বোধন কোনো সমস্যা নয়।’
আলাদিনের প্রদীপ ও অন্যরা

গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের টাকা ফেরত না দেওয়া ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে ৭টির বিরুদ্ধে এখনো মামলা হয়নি, তার একটি আলাদিনের প্রদীপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (অনার্স) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ওরফে মুন এর প্রতিষ্ঠাতা।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd