1. admin@dailyoporadh.com : admin :
বিনোদনভিত্তিক, শিক্ষামূলক বা সংবাদভিত্তিক সব ধরনের বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে

বিনোদনভিত্তিক, শিক্ষামূলক বা সংবাদভিত্তিক সব ধরনের বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৯ বার পঠিত

১ অক্টোবর থেকে দেশে বিজ্ঞাপনসহ কোনো বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার করা যাবে না, সরকার এমন নির্দেশনা আগেই দিয়েছিল। এর ছয় মাস আগে এপ্রিলে একবার সরকার এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটা পিছিয়ে ১ অক্টোবর করা হয়।

এবার সরকার ছিল কঠোর অবস্থানে। ফলে এই দিন থেকেই বাংলাদেশ থেকে কোনো বিদেশে চ্যানেল দেখা যাচ্ছে না। কেবল অপারেটর, ডিটিএইচ সংযোগের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। সরকার বলছে যাদের মাধ্যমে দর্শক বিদেশি চ্যানেল দেখতে পাচ্ছেন, তারাই ওই বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন ছাড়া সম্প্রচার করবে। বিজ্ঞাপন ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই।

সরকারের নির্দেশনা যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ঘোষণাও আগেই ছিল। গতকাল শুক্রবার থেকে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফলে গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতে প্রথমে কেবল অপারেটরেরা, রাতে ডিটিএইচ সংযোগ প্রদানকারীরা সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। ফলে বিপাকে পড়েছেন দর্শকেরা। তারা এখন বাংলাদেশি টেলিভিশন ছাড়া বিদেশি কোনো চ্যানেল দেখতে পাচ্ছেন না।

বিনোদনভিত্তিক, শিক্ষামূলক বা সংবাদভিত্তিক সব ধরনের বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে আছে।

সবার জানার আগ্রহ এর সমাধান কোথায়? বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনমুক্ত কে করবে?

সরকার বলছে তাদের করণীয় কিছু নেই। বিজ্ঞাপনসহ চ্যানেলের সম্প্রচার দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। অন্যদিকে কেবল অপারেটরেরা বলছেন, বিজ্ঞাপন ছাড়া (ক্লিন ফিড) চ্যানেলের সম্প্রচার করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ক্লিন ফিডের মানে হচ্ছে অনুষ্ঠানের ফাঁকে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশে যেসব বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার হয়, সেগুলোতে কমবেশি বিজ্ঞাপন থাকে। ফলে বিদেশি সব চ্যানেলের সম্প্রচার গতকাল থেকে আজ শনিবার এখন পর্যন্ত বন্ধ আছে।

কেবল অপারেটরেরা বলছেন, মোটা দাগে ৬৫-৬৭০টি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ আছে। বিজ্ঞাপন দেখায় না এমন চ্যানেল আছে বলে তাদের জানা নেই।

ক্লিন ফিড করবে কে?
একটি দেশে ক্লিন ফিড বা বিজ্ঞাপন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার হবে এটাই নতুন কোনো ধারণা নয়। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালেও ক্লিন ফিড বা বিজ্ঞাপন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার হয়। তা হলে প্রশ্নে উঠেছে বাংলাদেশে সমস্যা কোথায়?

দুই ভাবে এটি হতে পারে। যেসব বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে সম্প্রচার হয় সেসব চ্যানেল কাস্টমাইজ করে অর্থাৎ বাংলাদেশে তাদের চ্যানেল বিজ্ঞাপনহীন করে ডাউনলিংক করার ব্যবস্থা করতে পারে। অথবা বাংলাদেশে যারা স্যাটেলাইট থেকে চ্যানেল ডাউনলিংক করেন তারা চ্যানেলে অনুষ্ঠানের ফাঁকে থাকা বিজ্ঞাপন বাদ দিতে পারেন।

কেবল অপারেটেরা বলছেন, চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের জন্য আলাদা ফিড দেবে এটা অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবসম্মত নয়। এতে যদি ওই চ্যানেলের এ দেশে সম্প্রচারের ব্যাপক ভাবে আর্থিক লাভের সুযোগ না থাকে তাহলে সেটি তারা করবে না। এরপর থাকলে বাংলাদেশে যারা ডাউনলিংক করছে অর্থাৎ কেবল অপারেটর বা ডিটিএইচ সংযোগকারী।

বাংলাদেশ কেবল অপারেটরদের সংগঠনের সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, আমাদের (কেবল অপারেটর) অবস্থান হচ্ছে চ্যানেল ক্লিন ফিড করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। বাংলাদেশে লাইসেন্সধারী কেবল অপারেটরের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে এই চার-সাড়ে চার হাজারের মতো। বেশির ভাগ অপারেটরদের সংযোগ সংখ্যা ১৫০-২০০ বা ২৫০-৩০০। ফলে চ্যানেল ক্লিন ফিড করে চালানো কেবল অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রায় ৫ লাখ মানুষ এ খাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত। সরকারকে এই দিকটাও বিবেচনা করা দরকার। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে যেহেতু করার কিছু নেই, তাই সরকার পরবর্তীতে যেটা করতে বলবে, সেটাই করা হবে।

এক সময় বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, চ্যানেলের দুটি অংশ থাকে। একটি আপলিংক, অন্যদিকে ডাউনলিংক। চ্যানেল মালিক বা ব্রডকাস্টার তাদের চ্যানেল স্যাটেলাইটে আপলিংক করেন। আর কেবল অপারেটরেরা স্যাটেলাইট থেকে তা ডাউনলিংক করে। এর মাঝামাঝি আর কিছু নেই। বাংলাদেশের অপারেটরা সব চ্যানেল ডাউনলিংক করে ‘রিয়েল টাইমে’ সম্প্রচার করে। বিজ্ঞাপন মুক্ত করে রিয়েল টাইমে চ্যানেল সম্প্রচার করা তখন অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব না। আর চ্যানেল ক্লিন ফিড করে পরে সম্প্রচার করা কেবল অপারেটরদের জন্য ব্যয়বহুল এ কারণে তারা এটা করতে চান না। তবে এই কর্মকর্তা বলেন, মূলত কাজটা যারা ডাউনলিংক করে তাদেরই। অর্থাৎ কেবল অপারেটর, ডিটিএইচ সংযোগকারীদের।

সরকারের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার হয়তো আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। কিন্তু চ্যানেল ক্লিন ফিড করে দেওয়াটা আমি যতটুকু বুঝি সরকারের কাজ নয়। অন্যান্য দেশেও এমনটাই হয়।

অবশ্য এ ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, চ্যানেল ক্লিন ফিড কেবল অপারেটর বা ডিস্ট্রিবিউটরদের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছু নেই। তিনি বলেন, ক্লিন ফিড না হওয়ায় দেশের ক্ষতি হচ্ছে।

ক্লিন ফিড না হলে ক্ষতি কোথায়?
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অন্যতম মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলের দর্শকদের মধ্যে একটি বড় অংশ ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলের দর্শক। এ ছাড়া বিদেশ সিনেমা দেখানো হয় এমন চ্যানেলেরও দর্শক রয়েছে। এসব চ্যানেলে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। ওই বিদেশি পণ্য বাংলাদেশের বাজারেও বিক্রি হয়। সে ক্ষেত্রে এই পণ্য দিয়ে বাংলাদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন না পণ্য আমদানিকারকেরা। এতে দেশীয় চ্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপন আসলে বাংলাদেশ সরকার ট্যাক্স পায়। সে ক্ষেত্রে সরকারও লাভবান হয়।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd