1. admin@dailyoporadh.com : admin :
প্রজন্মের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন সুকুমার বাউলিয়া - দৈনিক অপরাধ
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইকবাল কার প্ররোচনায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন, তা বলেননি বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে

প্রজন্মের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন সুকুমার বাউলিয়া

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

কৃতজ্ঞতার বোধ জীবনের কাছেই থাকে। কিন্তু প্রতিকূলতায় প্রতিনিয়ত বিপন্ন জীবনে বর্তমানই একমাত্র সত্যি। নিয়ম ভেঙে হঠাৎ দু-একজন মানুষ চমকে দেন আমাদের। মুদ্রার আরেকটি পাশ দেখতে জানেন তাঁরা, অন্যকেও দেখতে শেখান। উপকূলীয় অঞ্চলের সুন্দরবনঘেঁষা কয়রার সুকুমার বাউলিয়ার একহারা গড়ন। রোদে পুড়ে তামাটে হওয়া রং দেখে বোঝার উপায় নেই কেমন ছিলেন একসময়। ভারী চশমা চোখের মানুষটির পোশাকও সাদাসিধে। উত্তর বেদকাশীর ১ নম্বর থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজতখালীতে রোজ দুই বেলা আসেন সুকুমার। পায়ে হাঁটা পথটুকু আম্পানের পর থেকে কপোতাক্ষ নদের দখলে। তাই নৌকা সহায়। হাজতখালীতে নৌকা থেকে নেমে এদিক–সেদিক দেখতে দেখতে মিনিট পনেরো এগোলেই মুখোমুখি সুন্দরবন।

কপোতাক্ষের পরই গোলপাতার ঝাড় দিয়ে শুরু বনের প্রাচীর। এই কপোতাক্ষজুড়ে যেমন আছে ভাঙন আর হারানোর গল্প, তেমনি আছে জীবনের বিপুল আয়োজনের ব্যতিক্রম হয়ে থাকা দু-একটা জয়মাল্য ফুল। তবে এই তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা নগরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই হারিয়ে যায়। ঝড়–জলোচ্ছ্বাসে বারবার ঠিকানা বদলের ধারাবাহিকতায় উপকূলের মানুষও নিজ ভূমিতে থিতু হওয়ার সুযোগ পায় কম।
এ বয়সেও আগুন রোদে নদীপথে দিনে দুবার না এসে একবার দীর্ঘ সময় থাকলেই তো পারেন, জিজ্ঞেস করেছিলাম। সুকুমার বাউলিয়া লম্বা-চওড়া হাসি দিয়ে বললেন, একটা বেলা ছেলেপেলেগুলো তখন নাটাই ছাড়া ঘুড়ির মতো ভোঁ ভোঁ করে ঘোরে। বনের দিকের নদীতে যায়, না হলে রোদের ভেতরই জালসি (হাতে ঠেলা ছোট জাল) নিয়ে নামে। ভাটার টানে কাদায় আটকে পড়া গুলি, মেনু মাছ ধরতে ছোটে। তখন নিজেরাই এক–একটা কাদামাখা ভূত হয়ে ঘুর ঘুর করে। ওই বেলার লেখাপড়া তখন লবডঙ্কা। না আসলে হয় বলেন?

সত্যি হয় না। এমন মানুষ না এলে একটি নোনা ভূমির বিষণ্নতা আর হারানোর যন্ত্রণার ভেতর মুদ্রার ভিন্ন পাশের গল্প লেখা হয় না। শুধু প্রজন্মের পর প্রজন্ম নয়, প্রত্যন্ত একটি জনপদই বিরানভূমি থেকে যেতে পারে একজন সুকুমার বাউলিয়ার অভাবে। কয়রার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের বাতি পৌঁছেছে মাত্র বছর কয়েক আগে। খুলনার দৌলতপুরের সুকুমার চার যুগ আগে ভূমিপুত্র হয়ে আসেননি কয়রায়। জীবনের অভিঘাত টেনে এনে আশ্রয় দিয়েছে। তখনো এই জনপদ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় আবার ভেসে ওঠে। কখনো কখনো মরদেহ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া গতি নেই আপনজনের। শ্বাপদসংকুল প্রান্তরের মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের মাপে স্মৃতির মূল্য অমূল্য হয় না কখনো। সেই জনপদে তিনি আশ্রয় খুঁজে নিলেন। আর মানুষ দেখল, হঠাৎ আসা মানুষটা আসলে নিজেই আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠলেন বহুজনের জন্য। এসএসসি পাস সুকুমার দেখলেন, এখানকার শিশুরাও পূর্বসূরির অনুগামী। নদী, নৌকা, বনের বিকল্প ভাবতে শেখেনি। ছোট শিশুদের অক্ষরজ্ঞানের চেয়ে বেশি আগ্রহ, গোলপাতার ফল দেখা বা জোয়ার–ভাটার পূর্বাভাস দিতে পারায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দূরের আর সেখানে নিয়মকানুনের জন্যও বনজীবী, জঙ্গল করা মানুষের সন্তানদের পাঠানোর আগ্রহ কম। তিনি সেই শিশুদের জন্য ১৯৭৮ সালে একার উদ্যোগে শুরু করলেন যাত্রা।

বাদাবন থেকে আনা গোলপাতা বিছিয়ে বসো, মাটিতে দাগ দিয়ে শেখো স্বরবর্ণ। শুরু হলো শেখানোর নেশা। কিন্তু একার প্রচেষ্টায় কতটুকু সম্ভব! নদী থেকে তুলে আনেন, বনের ধার থেকে ধরে আনেন, খেলার মাঠ থেকে কান ধরে টেনে এনে বসান নব ধারাপাতের সামনে। তখন থেকেই হাজতখালী শিশুশিক্ষা নিকেতন প্রাক্‌ প্রাইমারিকে সবাই বলে ‘পাঠশালা’। তিনটি শ্রেণির পাঠদান করেন একমাত্র শিক্ষক। বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজির পাশাপাশি প্রতিদিন সময় নিয়ে শেখানো হয় নীতিকথা ও সমাজবিজ্ঞান। খুদে শিক্ষার্থীরা মাস্টারমশাইকে ভয় পেতে পেতে ভালোবাসতে শেখে। তাদের অভাবী অভিভাবক এই শিক্ষকের কাছে যখন-তখন আসেন নানা সমস্যা নিয়ে। মন দিয়ে শোনেন, সমাধান দেন। মাঝেমধ্যে নিজেও ডাকেন। নদীতে মাছ ধরা নারী, বন থেকে মধু সংগ্রহ করা পিতা সন্তানের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন। অজান্তে এভাবেই বাড়ে মানুষের নিজের প্রতি নিজের সম্মান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই মানুষেরা এত দিন জানত, তারা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংবাদ শিরোনাম। ত্রাণের জন্য পানির ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ। একজন মানুষ ধীরে ধীরে বদলে দিতে শুরু করল তাদের মানসিকতা। শিশুদের মনস্তত্ত্ব খুব শক্তিশালী। তারা মা–বাবার সম্মান–অসম্মানটা খুব বোঝে। তাই পড়তে বিশেষ ইচ্ছা না থাকলেও মাস্টারমশাইকে ওরা ঠিক ভালোবাসে। এতটাই অধিকার যে এ শিক্ষকের একার একটা ছবি তোলারও যেন অধিকার নেই।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd