1. admin@dailyoporadh.com : admin :
করোনা মহামারির মধ্যে গত দেড় বছর দেশের ৯ জেলায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ হয়েছে - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

করোনা মহামারির মধ্যে গত দেড় বছর দেশের ৯ জেলায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ হয়েছে

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২১ বার পঠিত

করোনা মহামারির মধ্যে গত দেড় বছর দেশের ৯ জেলায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ হয়েছে। এসব জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহের ঘটনা খুলনায়। এই জেলায় তিন হাজারের বেশি ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বছরের মার্চ থেকে টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। খোলার পরও অনেক ছাত্রী স্কুলে নিয়মিত আসছে না বলে নজরে আসে শিক্ষকদের। এরও আগে অনেক ছাত্রী নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্টও জমা দিচ্ছিল না। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণিপড়ুয়া অনেক ছাত্রীরই বিয়ে হয়ে গেছে। প্রধানত করোনাকালে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে আসা বাল্যবিবাহ বেশি হয়েছে, এমন ১৬ জেলার খবর নিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের একটি জরিপেও বাল্যবিবাহপ্রবণ এই জেলাগুলোর নাম এসেছে। এগুলোর মধ্যে ৯টি জেলার ৭৬টি উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা। এই ৯টি জেলা হলো খুলনা, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরগুনা ও জামালপুর। এসব জেলায় ৭ হাজার ৬৭৭টি বাল্যবিবাহের তথ্য পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা।

ওই ৯ জেলার ১৭টি উপজেলায় অন্তত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা খোঁজ নিয়েছেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজারের বেশি ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে দশম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের জন্য রান্না, অতিথিদের দাওয়াত করাসহ সামাজিক সব আয়োজনই ছিল ওই বাড়িতে। ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় দুই প্রতিবেশী ও পরিচিত এক কাজির সঙ্গে পরামর্শ করে বয়স বাড়িয়ে নকল জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়। এরপর প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

জানতে চাইলে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ওই ছাত্রী কেঁদে ফেলে। বলে, ‘রাস্তায় যাতায়াতের সময় কিছু ছেলে উত্ত্যক্ত করত। এ জন্য পরিবার থেকে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিল।’

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও দেশে বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। গতকাল বুধবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ, সমন্বয় ও সচেতনতা সৃষ্টি শাখা অনলাইনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসংক্রান্ত এক কর্মশালাতে এমন উদ্বেগের কথা উঠে আসে। কর্মশালায় অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, অনেক সময় ঘরের ভেতরে হওয়া এসব বিয়ের খবর পাওয়া যায় না। তবে এটা ঠিক করোনাকালে বাল্যবিবাহ বেড়েছে।

আজ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। মূলত মেয়েদের শিক্ষার অধিকারসহ নানা বৈষম্য থেকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে এ দিবসের সূচনা।

শুধু খুলনায় ৩ হাজার বাল্যবিবাহ

গত বছর মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরুর কিছুদিন পরই বিয়ে হয়ে যায় খুলনা নগরের রেলওয়ে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীর। তার মা বলছিলেন, ছোট একটি ভাতের হোটেল ছিল তাঁদের। ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চলত। করোনা শুরুর পর লকডাউনে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। অভাবে পড়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। এখন মেয়ের সংসারে কলহ আর অশান্তি।

করোনাকালে খুলনা জেলার ১০ উপজেলায় গত দেড় বছরে ৩ হাজার ৯টি বাল্যবিবাহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা। সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হয়েছে ডুমুরিয়ায়—৭৫১টি। এরপরে রয়েছে কয়রায় ৬৮১টি, পাইকগাছায় ৪৮৩টি। বাকি সাত উপজেলায় ১ হাজার ৯৪টি বাল্যবিবাহ হয়েছে।

অবশ্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেরও উদ্যোগ আছে। মহিলা অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের হিসাবমতে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত বাল্যবিবাহের বিষয়ে তথ্য পেয়ে খুলনায় ৬৮টি বাল্যবিবাহ ঠেকানো গেছে। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাসনা হেনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাল্যবিবাহ ঠেকানোর জন্য আমাদের কাছে যত বার্তা আসে, হয়তো তার চেয়ে বেশি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে।’

আরও ৮ জেলার চিত্র

টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, করোনাকালে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ২৪২ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শহরের টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের ১৫-১৬ জন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। তবে তারা অনেকেই স্কুলে আসছে। বিয়ের কথা স্বীকার করছে না।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে শুধু দুটি বালিকা বিদ্যালয়েই ৩৫ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ছাত্রীর বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা সিদ্দিকুর রহমান বালিকা বিদ্যানিকেতন ও আবদুল জব্বার রাবিয়া খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সিদ্দিকুর রহমান বালিকা বিদ্যানিকেতনের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটির (১৫) বাড়ি খালিয়াজুরি সদর ইউনিয়নে। গত নভেম্বরে তার বিয়ে হয় একই উপজেলার এক তরুণের (২৫) সঙ্গে। মেয়েটির বাবা বললেন, ‘করোনায় ইস্কুল বন্ধ আছিল। আমারও কাজ কাম নাই। অভাবের সংসার। বালা (ভালো) একটা ছেরা (ছেলে) পাইছি, তাই বিয়া দিয়া দিছি। নিজের সংসার বুইঝিয়া লইছে।’

নেত্রকোনো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল গফুর জানান, নেত্রকোনায় ১০টি উপজেলায় ২৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd