1. admin@dailyoporadh.com : admin :
কিশোর অপরাধে জড়িয়ে আপনার সন্তানের পরিণতি যাতে এমন না হয়, সে জন্য সচেতন থাকতে হবে সবাইকে - দৈনিক অপরাধ
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইকবাল কার প্ররোচনায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন, তা বলেননি বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে

কিশোর অপরাধে জড়িয়ে আপনার সন্তানের পরিণতি যাতে এমন না হয়, সে জন্য সচেতন থাকতে হবে সবাইকে

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪২ বার পঠিত

ফুটপাতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা এক তরুণ রক্তে ভেসে যাচ্ছেন। কাছেই র‌্যাবের গাড়ি দাঁড়ানো, পাশে অ্যাম্বুলেন্স। একসময় আহত তরুণের মায়ের ফোন বেজে ওঠে। ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হয়, তরুণের এই পরিণতির কারণ তাঁর কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়া।

ভাষ্যকারকে বলতে শোনা যায়, ‘কিশোর অপরাধে জড়িয়ে আপনার সন্তানের পরিণতি যাতে এমন না হয়, সে জন্য সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ, সন্তানকে সেই শিক্ষা দিতে হবে পরিবার থেকেই। পাশাপাশি দায়িত্ব নিতে হবে সমাজকেও। কিশোর বয়সে সন্তান যেন আপনার লজ্জা না হয়ে গর্ব হয়। সবার হোক একটাই পণ, কিশোর অপরাধ করব দমন।’ বিজ্ঞাপনের শেষ দৃশ্যে ইউনিফর্ম পরা র‌্যাব সদস্যদের সারিবদ্ধভাবে অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। পেছনে মোটরসাইকেলে এগোতে দেখা যায় র‌্যাবের আরও একটি দলকে।

দিন তিনেক আগে বেশ ঘটা করে রাজধানীর মধুবাগে এই টিভি বিজ্ঞাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল। আয়োজক র‌্যাব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা হাজির ছিলেন সেখানে। মোটের ওপর সবাই একমত, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছে কিশোরেরা। তাদের দমন করতে হবে। দমন করার পথে বাধা তাদের বয়স। কারণ, শিশু আইনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনে এখন শিশুর বয়স ১৮।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৮ বছর বয়সে তো ইউনিভার্সিটিতে চলে যায়। আমাদের আজকে মনে হয় ১৮ বছর সময়সীমাটা চিন্তা করার বিষয় আসছে।’ পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘১৮ বছরে পূর্ণ যুবকের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাকেও কিন্তু শিশু হিসেবে কনসিডার করা হয়। কিশোর গ্যাং–এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আমরা যেভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি, সেভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।’ আর র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যদি কেউ এর পরেও জনসচেতনতামূলক আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুপথে না আসে, তাদের বিরুদ্ধে যে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা, সেটা কিন্তু চলমান থাকবে।’

ওই দিন সন্ধ্যায় দু–একজন শিশু অধিকারকর্মীর সঙ্গে কথা হয়। বিজ্ঞাপন কেমন লাগল জানতে চাই। মোটাদাগে তাঁরা দু–তিনটি পর্যবেক্ষণের কথা বলেন, প্রথমত, বিজ্ঞাপনে পরিবার ও সমাজের ওপর শিশু–কিশোরদের ভালো থাকা, মন্দ থাকার দায় চাপানো হয়েছে। মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের কাজ শুধু দমন করা, আর কোনো দায় নেই। যদিও শিশু আইন, ২০১৩–র যে মূল সুর, তার সঙ্গে এই ধারণা একেবারেই বেমানান। দ্বিতীয়ত, শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে না পারা রাষ্ট্র আর কিছু না পেরে এখন শিশুদের বয়স নিয়ে অহেতুক আলোচনা তৈরি করেছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের সময়ও একবার এই জিগির তোলা হয়েছিল।

দমন প্রসঙ্গে আসি। বাংলা একাডেমির অভিধানে দমন শব্দের বেশ কিছু অর্থ পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে যে অর্থে দমন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ শাসন, দণ্ডদান। শিশু আইনের ১০০টি ধারার কোথাও অবশ্য ‘দমন’ কথাটি ব্যবহৃত হয়নি।

এর আগেও আমরা ‘দমন’–এর একটা রূপ দেখেছি। বিজ্ঞাপনের শুরুতে সুমন নামে যে তরুণ উপুড় হয়ে পড়ে ছিল, ঠিক একইভাবে বছর দুয়েক আগে সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে ‘নয়ন বন্ড’কে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর পরনে ছিল নীল রঙের শার্ট। পুলিশ দাবি করেছিল, বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ডের এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ডের সাঙ্গপাঙ্গরা গুলি ছুড়েছিল, তারাও ছুড়েছিল। পরে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। নয়ন কী করে নয়ন বন্ড হলেন, সে সম্পর্কেও নানা খবর বেরিয়েছিল সে সময়। নয়ন বন্ডের ব্যাংকার বাবা যখন মারা যান, তখন তাঁর বয়স ৯–১০। খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কৈশোরে মাদক সেবনে জড়ান, পরে মাদক কেনাবেচায়। ওই মামলার অন্যান্য আসামির অনেকেই শিশু। তাদের বিচার চলছে শিশু আদালতে। ওই দিনের অনুষ্ঠানেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা আর মিন্নি, নয়ন বন্ড বা ঐশীদের দেখতে চান না।

শিশু আইনে কিন্তু শিশুদের ‘অসৎ পথে পরিচালনা করানো বা করিতে উৎসাহ দেওয়া’র অপরাধে পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধানও আছে। কখনো এই দণ্ডের প্রয়োগ হয়েছে কি না, জানা যায়নি। তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন কিশোর অপরাধ কীভাবে দমন করতে চায়? ওই দিনের অনুষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, তাতে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। যদিও বিজ্ঞাপনচিত্রে র‌্যাবকে অস্ত্র হাতে দৌড়ে আসতে দেখা যাচ্ছিল।

এবার আসি বয়স প্রসঙ্গে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী এশিয়ার প্রথম দুটি দেশের একটি বাংলাদেশ। ওই সনদ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েরা শিশু। এর ওপর ভিত্তি করে শিশু আইন, বাল্যবিবাহ নিরসন আইন, শ্রম আইন তৈরি হয়েছে। শিশু আইন, ২০১৩–র শুরুতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যমান অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠার) বৎসর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসাবে গণ্য হইবে।’ নতুন করে শিশুর বয়স নির্ধারণের উদ্যোগ নিলে আরও যে আইনগুলোয় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু বা কিশোর বলা হয়েছে, সে আইনগুলোর কী হবে?

তা ছাড়া বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ১৮ বছর বয়সের নিচে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে কোনো শিশুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। আইন অনুযায়ী নয় বছরের নিচে কোনো শিশুর অপরাধের দায় নেই। ৯–১২ বছরের শিশুর মানসিক পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করে তার ওপর অপরাধের দায় দিতে বলা হয়েছে। তাহলে ১৮ বছর নিয়ে এত মাতামাতি কেন? ১৮ বছর বয়সীদের শিশু বলায় কিশোর গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না কেন?

গলদ কোথায় জানতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। কেন কিশোরদের গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি বললেন, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুদের ব্যাপারে সরকারের প্রস্তুতিই নেই। আইন করে বসে আছে। যেমন আইনে পুলিশি প্রতিবেদনের পাশাপাশি সরেজমিন অনুসন্ধান করে শিশু ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে একটি সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে ওই প্রতিবেদন কি জমা হচ্ছে? যদি না–ই জানা গেল, শিশু কেন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছে, তাহলে এর সমাধান হবে কী করে? আবার যখন একজন শিশু আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আটক হচ্ছে, তখনো যেভাবে এগোনোর কথা, সেভাবে এগোনো যাচ্ছে না। এই আইনের মূল সুর হলো, অপরাধপ্রবণ শিশু পুলিশের কাছে আসবে। পুলিশ আর সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা মিলে শিশুকে সুপথে আনার জন্য নির্দেশনা দেবেন। আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া নয়, বরং অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় শিশুর সংশোধনে তাঁরা ব্রতী হবেন। পুলিশের দিক থেকে কোনো কিছুর অভাব নেই। কিন্তু প্রবেশন কর্মকর্তা পাওয়া যায় না।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd