1. admin@dailyoporadh.com : admin :
রাজশাহী নগরের মিঞাপাড়া ও মুন্সীডাঙ্গা এলাকার ঝড়বাদল নেই, রাস্তার কুকুরকে আদর করে খাওয়ান: সুধা রানী - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

রাজশাহী নগরের মিঞাপাড়া ও মুন্সীডাঙ্গা এলাকার ঝড়বাদল নেই, রাস্তার কুকুরকে আদর করে খাওয়ান: সুধা রানী

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৬ বার পঠিত

‘খাও, খাও সোনা। আজ ভালো তরকারি আনতে পারিনি, কাল আনব। আজ খাও সোনা। রাগ করো না, খাও…।’ এসব বলতে বলতে কুকুরের গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন সুধা রানী। ৩০ বছর ধরে তাঁর এই কথা শুনতে শুনতে রাজশাহী নগরের মিঞাপাড়া ও মুন্সীডাঙ্গা এলাকার মানুষের মুখস্থ হয়ে গেছে। ঝড়বাদল নেই, রাস্তার কুকুরকে আদর করে খাওয়ানোর এই দৃশ্য প্রতিদিনের।

সুধা রানী ভোর পাঁচটায় উঠে নিজের বাসায় থাকা পাঁচটি বিড়ালকে খাবার দেন। সকাল সাড়ে ৬টায় বের হন রাস্তার কুকুরের জন্য খাবার নিয়ে। ৩০ বছর আগে সুধা রানী যখন ২৫০ টাকা বেতনে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন, সেই থেকে নগরের মিঞাপাড়া এলাকায় অবস্থিত গ্রন্থাগারের সামনের কুকুরগুলোরও দায়িত্ব নেন তিনি।

প্রথমে দুই-একটা, তারপর কুকুরের দল হয়ে যায়। দুই বছর আগে সংস্কারের জন্য গ্রন্থাগারটি ভাঙা হয়েছে। বইপত্র অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কুকুরগুলোর ঠিকানা বদলায়নি। সুধা রানীর খাবার দেওয়াও বন্ধ হয়নি। সব সময় পাঁচ-সাতটি কুকুর গ্রন্থাগার গেটের সামনে শুয়ে থাকে। তাদের দেখভাল করেন তিনি। সব কুকুরের নাম দেন তিনি। সেই নামেই ডাকেন।

সুধা রানীর বয়স হয়েছে। এখন আর সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল তানোরের তালন্দ এলাকায়। এখন নগরের মুন্সীডাঙ্গা এলাকায় এক কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। ছেলে লক্ষ্মীকান্ত সরকারের আলাদা সংসার। তিনি অটোরিকশা চালান। দুই মেয়ের মধ্যে একজন সংসার করছেন। অন্যজন স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় মায়ের সঙ্গে থাকেন। সুধা বেতন পান তিন হাজার টাকা। বাসা ভাড়ায় যায় দুই হাজার টাকা। বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত গ্রন্থাগারে সময় দিতে হয়। অন্য সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। কাজ না করলে কুকুর-বিড়ালসহ তাঁর নিজের সংসার চলে না।

সুধার বিড়ালগুলোর নাম মনো, ফুলটুসি, সোনা, সেন্টু ও মনা। তাঁর ভাষায়, মনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কখন আসে কখন যায়, ঠিক নেই। কুকুরগুলোর মধ্যে কালু আর গ্রন্থাগারের সামনে থাকে না। মুন্সীডাঙ্গায় সড়কের পাশে থাকে। সব কুকুরের খোঁজ তাঁর কাছে থাকে।

বাসা থেকে খাবারের ব্যাগ আর একটি ছোট লাঠি নিয়ে বের হন সুধা। প্রথমেই কালুকে খাবার দেন। ডাক দিতেই কোত্থেকে ছুটে এল কালু। ২০ সেপ্টেম্বর সকালে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেল। তবে অন্য কুকুর কামড়ে কালুর কানের কাছে ঘা করে দিয়েছে। এদিন কালু এল ঠিকই, কিন্তু খেতে চাচ্ছিল না। সুধার আফসোসের শেষ নেই, কেন ওষুধটা আনলেন না! আদর পেয়ে কালু একবার খাবারে মুখ দিল। তারপর দূরে গিয়ে পা সটান করে শুয়ে পড়ল। সুধা বললেন, কালু আজ আর খাবে না।

কালুকে খাওয়ানোর সময় আরও দু-চারটা কুকুর পাশে এসে বসে, কিন্তু তারা কালুর খাবারে ভাগ বসায় না। ওরা হয়তো এত দিনে বুঝে গেছে, এ খাবার শুধু কালুর। যাওয়ার সময় সুধা অন্য কুকুরগুলোকে কয়েক টুকরা রুটি দিয়ে যান। এরপর চলে যান মিঞাপাড়ায়। সেখানে কালুর মা কালি থাকে। কালির সঙ্গে ঘোড়ামারার একটি, দরগাপাড়ার একটিসহ আরও পাঁচ-ছয়টি কুকুর থাকে। সেখানে গিয়েও একই আদর শুরু করলেন। আবার সেই কথা। ‘খাও সোনা, খাও খাও…।’ এ সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন অন্নপূর্ণা নামের ষাটোর্ধ্ব এক নারী। তিনি বলেন, ৩০ বছর ধরে সকালবেলায় এই একই কথা শুনতে শুনতে মুখস্থ হয়ে গেছে। ‘আজ খাও সোনা। কাল মাছ আনব, মাংস আনব…।’

প্রাতর্ভ্রমণের সময় প্রতিদিন ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়াইবর রহমান কুকুরকে খাওয়ানোর এই দৃশ্য দেখেন। তিনি সেদিন সুধার কাছে জানতে চাইলেন, কুকুর-বিড়াল নিয়ে কেন থাকেন। সুধা উত্তরে বললেন, ‘মানুষকে অনেক করেছি। তারা মনে রাখে না। কিন্তু এরা আমাকে ভুলে যায় না।’ মিঞাপাড়ায় খাবার দিয়ে মুন্সীডাঙ্গায় আসার সময় একদল কুকুর সুধাকে ঘিরে ধরল। তিনি সব কুকুরের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।

কালো রঙের একটি কুকুর এসে সুধার একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়াল। সুধা বলতে থাকলেন, ‘তোর কী হয়েছে? এখানে দৌড়াদৌড়ি করছিস কেন?’ এ সময় আরও কয়েকটি কুকুর এগিয়ে এল। কুকুরগুলো উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাজে যাওয়ার সময় বিস্কুট দিয়ে যাব, এখন যা।’ এই কথা শুনে কুকুরগুলো একে একে চলে গেল।

প্রতিদিন দুপুরে লাইব্রেরিতে যাওয়ার সময় কুকুরগুলোকে বিস্কুট দিয়ে যান সুধা রানী। দুপুরে বাড্ডু আর কালি নামের আরও দুটি কুকুর বাসায় এসে খেয়ে যায়। তাঁর বাসায় গিয়ে দেখা গেল, বাডডু আর কালির ভাতের থালা পড়ে আছে। বিড়ালগুলো বিছানায় আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে। সুধার মেয়ে পাতু বললেন, ওরা খেয়ে ঘুমিয়েছে। ওদের ঘুম ভাঙানো যাবে না। খুব বিরক্ত হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd