1. admin@dailyoporadh.com : admin :
ভারতের সমুদ্র সীমার ৮৯ নম্বর ভিত্তি পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

ভারতের সমুদ্র সীমার ৮৯ নম্বর ভিত্তি পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

ভারত নিজের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে উপকূলীয় ভিত্তিরেখা বা বেসলাইন ব্যবহার করেছে, এর একটি অংশ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভেতরে পড়েছে। সাত বছর ধরে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থানের বিষয়টি অবহিত করে বাংলাদেশ ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে মহাসচিবের কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে এরই মধ্যে ওই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে মহীসোপানের দাবির বিষয়ে বাংলাদেশের যুক্তির বিপক্ষে আপত্তি জানিয়ে ভারত গত এপ্রিলে জাতিসংঘকে একটি চিঠি দিয়েছিল। ভারতের সেই চিঠির বিষয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবকে পৃথক আরেকটি একটি চিঠি দেয় বাংলাদেশ। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ বলেছে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা অনুসরণ করেই মহীসোপানের দাবি নির্ধারণ করেছে ঢাকা।

সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর ভূখণ্ডের যে অংশ সমুদ্রের দিকে পানির নিচে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে নেমে যায়, তাকে মহীসোপান বলে। সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর স্থলভাগের বেসলাইন বা ভিত্তিরেখা থেকে লম্বালম্বিভাবে সমুদ্রের সাড়ে তিন শ মাইল এলাকাকে সংশ্লিষ্ট দেশের মহীসোপান বলা হয়। এর মধ্যে ২০০ মাইল পর্যন্ত এলাকার মালিকানা সম্পূর্ণ ওই দেশের। সেখানে অন্য কোনো দেশ মাছ ধরতে পারে না এবং খনিজ সম্পদের দাবি করতে পারে না। এই ২০০ মাইলের পর ১৫০ মাইল পর্যন্ত সীমায় সমুদ্রের তলদেশে খনিজ সম্পদের মালিক ওই দেশ, তবে মাছ ধরতে পারে সব দেশ।

সাত বছরের নিষ্ফল প্রয়াস

নিজের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য ভারত ২০০৯ সালের মে মাসে উপকূলীয় একটি ভিত্তিরেখা বা বেসলাইন ব্যবহার করে আসছে। ওই ভিত্তিরেখার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ২০০৯ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। তাতে ভারতের ওই ভিত্তিরেখার একটি অংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকায় তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভুলটি সংশোধনের অনুরোধ করা হয়। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত দুই নিকট প্রতিবেশীর সীমানা নির্ধারণ করে রায় দেওয়ার পর ভিত্তিরেখার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সুরাহার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ভারত।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত ২০১৪ সালে যে রায় দিয়েছেন, তা দুই পক্ষ মেনে নিয়েছে। ওই রায়ের পর এখন নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।

জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে ১৩ সেপ্টেম্বর লেখা একটি চিঠিতে বাংলাদেশ জানিয়েছে, এ বছরের এপ্রিলে ভারত জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণবিষয়ক কমিশনে বাংলাদেশের মহীসোপানের বিষয়ে আপত্তি জানালে বিষয়টি আরও ঘোলাটে হয়ে যায়। ভারত তাদের আপত্তিতে জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের যে ভিত্তিরেখার ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, তা ভারতের মহীসোপানের একটি অংশ। তাই ভারত জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণবিষয়ক কমিশনে বাংলাদেশের দাবিকে বিবেচনায় না নেওয়ার অনুরোধ জানায়। এরপর বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেয়, বিষয়টি যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটি জাতিসংঘকে জানাবে।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিষয়টি জাতিসংঘ এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে জানায়নি। কিন্তু এখন বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে ভারতের এ অবস্থানের বিরোধিতা করছে। ভারত বিষয়টি সুরাহা না করে জাতিসংঘকে অবহিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ এ বিরোধিতা করতে থাকবে। ভারতের ভিত্তিরেখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালে ভারত টেরিটোরিয়াল ওয়াটার ও মেরিটাইম জোন–সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে। এর ৩৩ বছর পর ২০০৯ সালে ভিত্তিরেখা নির্ধারণের জন্য সংশোধনী আনে। আগের নিয়মে সমুদ্রের পানির নিম্নস্তর থেকে ভিত্তিরেখা নির্ধারণের বিধান থাকলেও বর্তমানে তারা ‘স্ট্রেট লাইন বেসলাইন’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা আনক্লজের (জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন) ৭ নম্বর ধারার পরিপন্থী।

ভিত্তিরেখা সমুদ্রতীর থেকে নির্ধারণের বিধান থাকলেও ভারতের কিছু ভিত্তিরেখা সমুদ্র থেকে ধরা হয়েছে। যেমন ৮৭ নম্বর ভিত্তি পয়েন্টটি সমুদ্র থেকে শুরু। সেখান থেকে ভারতীয় উপকূল আনুমানিক সাড়ে ১০ নটিক্যাল মাইল (নৌমাইল) দূরে। ভারতের ৮৯ নম্বর ভিত্তি পয়েন্টের অবস্থান বাংলাদেশের জলসীমানার প্রায় ২ দশমিক ৩ মাইল অভ্যন্তরে, যা নিয়ে বাংলাদেশ বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন বলে জাতিসংঘকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম বলেন, ‘ভারত যেভাবে তাদের বেসলাইন নির্ধারণ করেছে, সেটি আনক্লজের ৭ নম্বর ধারার পরিপন্থী। তাই আমরা এ নিয়ে আমাদের আপত্তি তুলে ধরেছি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হয়। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd