1. admin@dailyoporadh.com : admin :
ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ - দৈনিক অপরাধ
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি)

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৪ বার পঠিত

ঝুমন দাশের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রথমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, তারপর রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ঝুমন দাশের গ্রামের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ ও অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। অবশ্য এই আক্রমণ ও অত্যাচারকে তখনই অকথ্য বলা যায়, যখন সমাজ ও রাষ্ট্র সেটাকে তেমন মাত্রার আচরণ বলে মনে করে। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা এ ধরনের আক্রমণ-নির্যাতনকে ‘হতেই পারে’ বা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলেই আখ্যায়িত করে থাকেন।

মজার ব্যাপার হলো, দুর্বৃত্তপনা ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের জন্য স্বয়ং রাষ্ট্র কর্তৃক অভিযুক্ত হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এবং এ রকম উগ্র সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেই ঝুমন দাশ পোস্টটি লিখেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ কথা স্পষ্ট করতে চাই যে ঝুমন দাশের বক্তব্যের ধরন বা ভাষার অনেকাংশই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমার আজকের আলোচনায় তার বিস্তারিত বিশ্লেষণের সুযোগ নেই। লক্ষ করার বিষয় হলো, রাষ্ট্র মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের যেসব কারণ দেখিয়েছে, ঝুমন দাশ আনীত অভিযোগের অনেকগুলোর সঙ্গেই তার আশ্চর্য রকম মিল রয়েছে। ভেবে অবাক না হয়ে পারা যায় না, রাষ্ট্র যেসব কার্যকলাপ বা কথাবার্তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে রেখেছে, সেই অপরাধেরই প্রতিকার চাওয়ার কারণে ঝুমন দাশকে রাষ্ট্রই বিনা ওয়ারেন্টে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারারুদ্ধ করে রেখেছে।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানতে পারি, গত ১৬ মার্চ থেকে ঝুমন দাশের বন্দিদশা চলছে। এর মধ্যে ছয়বার নিম্ন আদালতে ঝুমনের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা নিম্ন আদালতের বিচারিক কর্মকর্তারা পরম নিষ্ঠার সঙ্গে ছয়বারই সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। ধন্য বটে আমাদের বিচারব্যবস্থা!

সংবাদসূত্রে আরও জানা যায়, প্রশাসন ও পুলিশের নজরে নিয়ে আসা সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নয়াগাঁও হিন্দু গ্রামে যেদিন পরিকল্পিত নারকীয় হামলাটি চালানো হলো, সেদিনের তারিখটি ছিল ১৭ মার্চ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী। জাতি যখন পরম শ্রদ্ধাভরে, উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে জাতির জনককে বিশেষভাবে স্মরণ করছে, সেই একই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে শুধু একটি বিশেষ ধর্মে জন্মগ্রহণ করার জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে সবার চোখের সামনে ঝুমন দাশের গ্রামের হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় ঘৃণ্য তাণ্ডব চালাতে পারল কোনো রকম বাধার সম্মুখীন না হয়ে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কথাটা উল্লেখ করা এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক এই কারণে যে আজকের আলোচনার বিষয়টা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে কে, কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে, সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকারের প্রশ্নসংক্রান্ত, যা প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের সংগ্রামের নির্যাস বলেই আমরা মানি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা বছরটি ঘিরে দৃঢ় প্রত্যয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ পরিচালিত হবে, যা আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে বুকের গভীরে ধারণ করি, লালন করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাণপণে প্রতিদিন তাঁর প্রতিটি কথায়, বক্তৃতা-বিবৃতিতে এ কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই চেতনা ও আদর্শ দেশের সব মানুষের মধ্যে সঞ্চারণ করার কী উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা, যাঁরা সংসদে, মন্ত্রিসভায়, নানান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সামরিক অথবা বেসামরিক প্রশাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন?

দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এ ব্যাপারে আমরা প্রতিনিয়ত হতাশাব্যঞ্জক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছি। আমরা দিনের পর দিন অসাম্প্রদায়িক, মুক্তবুদ্ধি ও মানবিক বোধসম্পন্ন সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ও তৎপরতাকে অসম্মানিত ও ভূলুণ্ঠিত হতে দেখছি। উদার নাগরিক সমাজের দেশ গড়ার স্পৃহা ও কর্মোদ্যমকে সংকুচিত করার আইনি-বেআইনি নানা তৎপরতা চলছে বাধাহীনভাবে। এ প্রবণতা প্রশ্রয়প্রাপ্ত হচ্ছে এমনকি নীতিনির্ধারকদের দ্বারাও। মানবাধিকারের শর্তগুলো খোলাখুলিভাবেই অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার মানসিকতা দৃশ্যমান রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি স্তর বা প্রতিষ্ঠানে। শুধু তা–ই নয়, রাষ্ট্র এবং মানবাধিকারকে পরস্পরের বৈরী অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেখানোর চেষ্টারও কোনো কমতি নেই। নিপীড়নমূলক যত আইনেরই শুধু নয়, সাধারণ আইনেরও অপব্যবহার হতে দেখি যত্রতত্র। আর এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চোখে সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত যদি হয় নারী, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানের, ভিন্ন ধর্ম বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের মানুষ, তাহলে এর মাত্রা যে কী উৎপীড়নমূলক হতে পারে, তা একেবারে জোর করে চোখ বন্ধ করে না রাখলে না দেখতে পাওয়ার উপায় নেই।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd