1. admin@dailyoporadh.com : admin :
বিদ্যালয় খুলে দিলেই রাষ্ট্র ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

বিদ্যালয় খুলে দিলেই রাষ্ট্র ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৫ বার পঠিত

পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা কেবলই হাসিখুশি বালক-বালিকার স্কুল ড্রেস পরা ছবি দেখছি। বেজার মুখ, মন খারাপ, স্কুলে যেতেই চাইছে না, স্কুল খোলায় আতঙ্কিত—এ রকম বালক-বালিকার ছবি কেউ দেখাচ্ছে না। পত্রপত্রিকায় যেমন নেই, সামাজিক মাধ্যমেও শেষোক্তদের বিষয়ে তেমন কোনো আলাপচারিতা নেই।

স্কুল খুলেছে—খবরটি নিশ্চয়ই আনন্দের। সে জন্য সব মহলে যে আলাপ-আলোচনা ও উৎসাহ-উচ্ছ্বাস, সেটি বোধগম্য। তবু আমলে নিতে হয়, সব সত্যেরই কিন্তু দুটি পিঠ থাকে ও আছে। স্কুল খোলায় বালক-বালিকারা আনন্দিত—এক পিঠ সত্য। স্কুল খোলায় একদল বালক-বালিকার হাসি-আনন্দ কর্পূরের মতো উবে গেছে—আরেক পিঠ সত্য। বছর দেড়েকের স্কুল বন্ধে বালক-বালিকাদের শেষোক্ত অংশটি স্কুলবিহীন জগতে এমনই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে স্কুল খোলার ঘোষণায় তাদের অনেকেই বিমর্ষ, বিষণ্ন ও মনোযাতনাক্লিষ্ট। অনেকেরই মানসিক স্বাস্থ্য ভঙ্গুর। অনেকের মধ্যেই ভীতি ও আত্মবিশ্বাসহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। কোভিডকালে অনিয়মে স্কুলবহির্ভূত নানা কর্মকাণ্ড ও গেম-গেজেটে আসক্তি বেড়েছে অনেক কিশোর-কিশোরীর। এসব বাস্তবতাও তাদের স্কুলে ফেরায় অনাগ্রহের কারণ।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাদের বিষয়েও কি ভাবতে হবে? পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে তাদের ছবিছাবা বা মনোভাবের ফিরিস্তি দিতে হবে? সেসব কি আদৌ দরকারি?
সব কটি প্রশ্নেরই উত্তর—‘হ্যাঁ, অবশ্যই’। তাদের বিষয়ে কেন ভাবতে হবে? ভাবতে হবে, কারণ হাসিখুশি বালক-বালিকাদের অভিযোজন সমস্যা নেই। তারা পাঠ-প্রস্তুত।

বিদ্যালয়-প্রস্তুত। মানসিকভাবে তারা অভিযোজিত হয়েই আছে। সমস্যা দ্বিতীয় দলকে নিয়ে। তাদের অনভ্যস্ত হয়ে পড়া একটি সমস্যা। তাদের পূর্ণকালীন ছাত্রত্বে আবার ফিরিয়ে আনার বেলায় অন্তর্বর্তীকালীন নিয়মভঙ্গের অভিজ্ঞতা বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের আত্মবিশ্বাস হারানোও সমান সমস্যাজনক।
অথচ শিক্ষার্থীদের এই নাজুক অংশের সমস্যাগুলোই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত মনে হচ্ছে।

পরীক্ষাব্যবস্থা ছাত্রছাত্রীদের পাঠ-প্রস্তুতিতে এবং জানা ও শেখায় ব্যস্ত রাখে। উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনে নেওয়া পাঠ-প্রস্তুতির সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ফল থাকে।

ছাত্রছাত্রীদের অভ্যস্ততায় ভাটা পড়েনি। ফলে আত্মবিশ্বাসেরও কমতি হয় না। সে বিবেচনায় ‘অটো পাস’ পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের অভ্যস্ততা ও আত্মবিশ্বাস—দুটিতেই ঘাটতি থাকবে। এ অবস্থায় তাদের ফের বিদ্যায়তনে ফেরার আত্মবিশ্বাস কতটুকু আছে, তা জানার জন্য কোনো জরিপ কি হয়েছে? তারা আসলে শিক্ষায় কতটুকু পিছিয়ে পড়েছে, এ রকম কোনো মান নির্ণয় বা পর্যায় নির্ধারণের ব্যবস্থা কি হয়েছে? যারা বিনা পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে, তারা কি আদৌ এ দুই পর্যায়ের চিরাচরিত মান ধরে রেখে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মজীবনে স্বাভাবিক ও কাম্য সক্ষমতা দেখাতে পারবে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তাদের অতিরিক্ত কোনো মান-সমন্বয়ক বা মান-সমরূপীকারক (ইকুইভ্যালেন্স) পাঠ বা কোর্সের প্রয়োজন হবে কি? হলে সেসবের কোনো প্রস্তুতি রয়েছে কি?

বাংলাদেশের গ্রাম-সমাজের প্রেক্ষাপটে আরেকটি আশঙ্কাও অমূলক নয়—একদল ছাত্রছাত্রী স্বেচ্ছায় ছাত্রত্ব ছেড়ে দিতে পারে। এ রকম ভলান্টারি ড্রপ-আউট বা ইচ্ছাকৃত ঝরে পড়ার কারণ বিনা চেষ্টায় উচ্চমাধ্যমিকের সনদ মিলে যাওয়া। বিশেষত, অসচ্ছল পরিবারের সব বালিকার অভিভাবকদের মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে উচ্চমাধ্যমিক সনদ মিলে যাওয়ার পর বিয়ে-থা, সংসার, সন্তানসন্ততির বিষয়কেই প্রাধান্য দেওয়া দরকার। যেহেতু আরেকবার ‘অটো পাস’-এর ব্যবস্থা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, পুনরায় ছাত্রত্ব গ্রহণ তাদের অনেকের কাছেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতে পারে।

অটো পাস-সম্পর্কিত স্টিগমাও একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইংরেজি ‘স্টিগমা’ শব্দের সহজবোধ্য বাংলা হতে পারে ‘অপবাদমূলক হেয়করণ’। যেমন ‘অটো পাস’ পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের এবং সমাজের আমজনতার একধরনের ব্যঙ্গ বিদ্রূপাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে হেয় দৃষ্টিতে দেখা হতে পারে। শিক্ষায়তনে বৈষম্য হতে পারে। সেই বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কর্মক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে অটো পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সে বছরের সনদধারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে পরবর্তী দু-তিনটি দশক সাধারণ্যে সন্দেহ ও বিদ্রূপাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি টিকে ছিল।

বিদ্যালয় খুলে দিলেই রাষ্ট্র ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এখনো স্পষ্ট নয় রাষ্ট্র বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ছাত্রছাত্রীদের মূলধারাকরণ’ ও ‘মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা’ দেওয়ার আদৌ কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কি না। শিক্ষার্থীদের একাংশকে শ্রেণিকক্ষে পুনঃ অভ্যস্তকরণ একান্তই প্রয়োজনীয় বিষয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্দেশনাও গিয়ে থাকতে পারে। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়গুলো প্রকাশ্য হওয়া প্রয়োজন।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd