1. admin@dailyoporadh.com : admin :
দুই মেয়েকে হারিয়ে মা–বাবার জগৎ অন্ধকার - দৈনিক অপরাধ
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে

দুই মেয়েকে হারিয়ে মা–বাবার জগৎ অন্ধকার

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬০ বার পঠিত

নিহত চার কিশোরী হলো গাজীপুর সদরের পাইনশাইল গ্রামের সোলাইমান হোসেনের মেয়ে রিচি আক্তার (১৫) ও রিয়া আক্তার (১০) এবং মনজুর হোসেনের মেয়ে মায়া আক্তার (১৪) ও হায়াত আলীর মেয়ে আইরিন আক্তার (১৪)। মায়া স্থানীয় জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আইরিন পাইনশাইল গ্রামের গাছপুকুরপাড়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। রিচি জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম ও রিয়া স্থানীয় শম্পা কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। রিয়ার লাশ মঙ্গলবার বিকেলে উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর হয়ে পাইনশাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ। একই পাড়ার চার কিশোরীর মৃত্যুর খবরে পুরো গ্রামের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন নিহতদের বাড়িতে। গ্রামের বাসিন্দা আলী আহাদ বলেন, এক দিন আগেও যে কিশোরীদের প্রাণচাঞ্চল্য চোখে পড়ত। তারা আজ নেই। এমন অপমৃত্যু যেন আর না হয়। সোলাইমান হোসেন দুই মেয়ে রিচি ও রিয়াকে হারিয়ে পাগলের মতো হয়ে গেছেন। কারণ, তাঁদের দুটিই সন্তান ছিল।

সোলাইমান হোসেনের বাড়ির দৃশ্য দেখে অনেকের চোখে পানি চলে আসে। তাঁর সম্বলই ছিল মেয়ে দুটি। যে সন্তানদের নিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ চিন্তা করতেন। কিন্তু নিয়তির খেলায় পানির স্রোতে হারিয়েছে দুই মেয়ে। মা আকলিমা বেগমও শুধু বিলাপ করছেন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করছেন আর অনেক কথা বলছেন। কিন্তু সেগুলো বুঝতে পারছে না কেউ।

একই অবস্থা গ্রামের মনজুর হোসেন ও হায়াত আলীর বাড়িতেও। তাঁরাও সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কেন মেয়েকে পানিতে যাওয়ার আগে আটকাতে পারলেন না, এই বলে বিলাপ করছেন হায়াত আলী। তিনি বলেন, ‘একটু যদি দেখতাম তাহলে যেতে দিতাম না। আমার মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। এখন কীভাবে বাঁচব। আমার মেয়েকে তোমরা ফিরিয়ে এনে দাও।’

নিহত চারজনের সঙ্গে গোসল করতে গিয়েছিল সাবিনা আক্তার। তবে বেঁচে গেছে। সে বাড়ির উঠানে বসা। মুখে কোনো কথা নেই। চোখের সামনেই স্রোতে হারিয়ে যেতে দেখেছে খেলার চার সাথিকে। সারা দিন ওরা পাঁচ-ছয়জন একসঙ্গে খেলা করত। সাবিনা বলে, ‘ওরা যখন ডুবে গেল, আমি তাদের হাত ধরার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু চোখের পলকেই কোথায় যেন হারিয়ে গেল। আর ধরতে পারলাম না।’

এলাকাবাসী জানান, লবন্দহ খালে বন্যার পানিতে এখন অথই পানি। প্রতিদিনই সেখানে আশপাশের শিশু–কিশোরেরা গোসলে যায়। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিচি, রিয়া, আইরিন, মায়াসহ পাঁচ-ছয়জন কিশোরী খালে গোসলে নামে। একপর্যায়ে তারা খালের স্রোতে চলে যায়। অন্য কিশোরীরা তাদের দেখতে না পেয়ে ডাক–চিৎকার শুরু করে। এ সময় দুজন পাড়ে উঠতে পারলেও চারজন তলিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ডুবুরি দল প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। নিখোঁজ একজনের লাশ মঙ্গলবার বিকেলে উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, নিখোঁজ একজনের লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd