1. admin@dailyoporadh.com : admin :
ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ চায় সরকার - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ চায় সরকার

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৯ বার পঠিত

ধরুন, হক সাহেবের ঘরে-বাইরে অশান্তি। শেয়ারবাজারে ধরা খেয়েছেন, সংসার চালাতে হিমশিম—গিন্নি রেগে আগুন। তিনি যে দলের সমর্থক, সে দল কোনোরকমে টিকে আছে। উচ্চ রক্তচাপ-ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফেসবুকে চলতি ইস্যুতে পোস্ট দিয়ে, নয়তো মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করে মনের যাতনা মেটান। এ-ই তাঁর শ্বাস নেওয়ার জায়গা।

এই হক সাহেবের মতো মানুষের জন্য আরও দুঃসংবাদ আছে। ‘পারসোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামের আইন করে ভার্চ্যুয়াল জগতের স্পর্শকাতর তথ্যসহ সব তথ্যই এখন তালুবন্দী করতে চাইছে সরকার। প্রস্তাবিত আইন নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক খসড়ায় তা-ই দেখা যাচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, সম্মতি নিয়ে যেকোনো তথ্য সরকার নিতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে। পুরো বিষয় নিয়ন্ত্রণ করবেন সরকারের নিয়োগ দেওয়া একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর অধীনে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে না পারলে এ দায়িত্ব তৃতীয় কোনো পক্ষকে দিয়ে করাতে পারবেন তাঁরা।

কোনো কারণে যদি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয় বা কোনো অসংগতি দেখা দেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে যেতে পারবেন না। তাঁকে অভিযোগ করতে হবে ডিরেক্টর জেনারেলের কাছেই। ডিরেক্টর জেনারেল যদি আবার দেখেন, সরল বিশ্বাসে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ফাঁস করে দিয়েছেন, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে আর কেউ ফাঁস করলে ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ পাবেন।

তা ছাড়া ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল, টুইটার, আমাজনসহ সব টেকজায়ান্টকে বাংলাদেশে সার্ভার স্থাপন করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ডেটা বাংলাদেশের ভেতরে রাখা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ অবশ্য বলেছেন বলেছেন, ‘নজরদারি বা সার্ভেইলেন্স এ আইনের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই না আমাদের নাগরিকদের তথ্য অরক্ষিত থাকুক। ফেসবুক ও গুগল এখন নতুন ঔপনিবেশিক শক্তি। সামনের দিনগুলোয় তথ্য হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। মানুষ বুঝে বা না বুঝে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য এদের হাতে তুলে দিচ্ছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, এখনো কোনো খসড়া চূড়ান্ত হয়নি। এখনো তাঁরা আলাপ-আলোচনার মধ্যে আছেন এবং বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। খসড়া হলে তাঁরা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন। তবে চলতি বছরের জুনে একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রাথমিক খসড়া করার কথা স্বীকার করেছিলেন।

একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক এই খসড়া নিয়ে কথা হয় ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার ল অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিসের শিক্ষক মুহাম্মদ এরশাদুল করিমের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‌প্রায় সব ধরনের সেবা নিতে এখন ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া-নেওয়া করতে হয়। সে কারণে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা দিতে বিশ্বের ১৩৫টির মতো দেশ আইন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) আছে। এগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি একজন মানুষ যেন ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ বোধ করে, তার ব্যবস্থা করা।

কিন্তু প্রাথমিক এ খসড়ায় সরকার ব্যক্তিগত তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে এ আইন করছে, নাকি মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে করছে, না রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কথা মাথা রেখে করছে, তা-ই স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করেন মুহাম্মদ এরশাদুল করিম।

জানা গেছে, অন্যান্য দেশে একজন ব্যক্তি যে উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত তথ‌্য দিচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠান শুধু ওই উদ্দেশ্যেই তা ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিচ্ছিন্নভাবে এমন কিছু বিধান আছে। সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের খুদে বার্তা ইনবক্সে জমা হতে থাকে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে।

প্রশ্ন উঠছে, এ আইনের উদ্দেশ্য কী? ওয়াকিবহাল সূত্রগুলোর উদ্বেগ, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ বড় আন্দোলনগুলো সংগঠিত হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করেছে। ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে এ নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ বছরের জুনে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ, ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ফেসবুক ও ইউটিউবের কাছে যত তথ্য চেয়েছে, তার মাত্র ৪০ ভাগ দিয়েছে ফেসবুক ও ইউটিউব। তারা শুধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপপ্রচার এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। কিন্তু কোনো নাগরিক যদি জঙ্গিবাদ বা গুজব ছড়ায়, তখন আর তথ্য দেয় না। তারা বলে, এগুলো বাক্‌স্বাধীনতা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যথেষ্ট নয়। এ সমস্যা সমাধানে নতুন আইন করা হচ্ছে। তার খসড়াও করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd