1. admin@dailyoporadh.com : admin :
স্কুল খোলার প্রথম দিনে ওদের সুন্দর ভুল - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:১১ অপরাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি)

স্কুল খোলার প্রথম দিনে ওদের সুন্দর ভুল

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক।
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৯ বার পঠিত

রাজধানীর ধানমন্ডির ১১/এ নম্বর সড়ক দিয়ে আজ সকালে দৌড়াচ্ছিল এক শিশু। পেছনে ভারী ব্যাগ নিয়ে শিশুর ওই অলিম্পিক রেসের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না অভিভাবক। সকাল আটটায় ক্লাস শুরু হবে। আর মাত্র সাত মিনিট বাকি। এ সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা মেপে এবং হাত স্যানিটাইজ করে বসতে হবে শ্রেণিকক্ষে। আগে এই ক্লাসে যেখানে ২০ থেকে ২৫ জন বসত, আজ সেখানে প্রতি তিন ফুটের একেকটি বেঞ্চে একজন করে বসছে। কেউ কাউকে স্পর্শ করতে পারছে না। আজ টিফিন বক্স খুলে টুপ করে মুখে একটা লাড্ডু গুঁজে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাত্র দুই ঘণ্টার ক্লাস।

তবু আজ যে স্কুল খোলা, সেই খুশিতে আকাশ আর গলির মোড় সব সমান হয়েছে। প্রথম শ্রেণির রাফিনের দৌড় দেখে তা–ই মনে হবে যে কারোর। আনন্দের জোয়ারে আসলে ও একটা ভুল করেছে!

ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ক্লাস ‘ওয়ান জুন’ আর ক্লাস ‘ওয়ান জানুয়ারি’—দুই শাখার ভবন দুটি ১১ নম্বর সড়কের এ মাথা আর ও মাথায়। জানুয়ারি সেকশনের রাফিন সেকশন ভুল করে আরেকটিতে ঢুকে পড়ে। বন্ধুদের মুখ না দেখতে পেয়েই টের পেয়েছে নিজের বিভাগটি অন্য। ভাগ্য ভালো, অভিভাবক তখনো প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে।

২০২০ সালে করোনা অতিমারি শুরুর পর এই শিশুটি কোনো কারণে জুন সেকশনে একদিন প্রবেশ করেছিল। শ্রেণিকক্ষ ভুল হওয়ার জন্য দেড় বছর একটা দীর্ঘ সময় নিশ্চয়ই; তবে এর চেয়ে বড় কারণ, গতকাল থেকে উচ্ছ্বাসে তালগোল পাকিয়েছে ওর মনে। আজ যে শিশুরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে, তাদের অধিকাংশই আনন্দ আর দুশ্চিন্তায় ঘুমায়নি গত রাতে। এক শিশুকে মাথা ঝাঁকিয়ে হাঁটতে দেখে মনে হচ্ছিল, শুরু হলো সেই ঘুম ঘুম চোখে স্কুল-ইউনিফর্ম জীবন। ব্যাপারটা তা নয়; সাদা শার্ট, ছাইরঙা প্যান্টের ছেলেটার জুতা জোড়া কেনা হয়েছে গতকাল। সেটা এখনই অভ্যস্ত হয়নি পায়ে। ঘুরেফিরে তাই বারবার চোখ যাচ্ছে নতুন জুতায়। ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আরেকটি শাখা দুই গলি পর ১৪/এ নম্বর রোডে। সেখানে দেখা গেল এক অভিনব দৃশ্য। এ বিভাগে প্রথম দিন এসেছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আসবে আগামীকাল। সপ্তাহে এক দিন করে ক্লাস।

ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির তত্ত্বাবধান করেন মো. মিরন হোসেন। তিনি জানান, সিনিয়র সেকশনে আগে এক কক্ষে ৪০ জনের মতো বসত। আজ ১১–১২ জন করে বসানো হচ্ছে। কথা বলতে বলতে চোখের সামনে দিয়ে দুই ছাত্র ঢুকল, যাদের গায়ে টি-শার্ট। একজন শিক্ষক হেসে বললেন, ‘আজ প্রথম দিন, তাই অনেকে পোশাক বানাতে পারেনি। অনেকের আবার আগেরটাই ঠিক আছে। তবে আমরা স্কুলে আসতে উৎসাহ দিচ্ছি, প্রথম দিনেই পোশাক নিয়ে কিছু বলছি না। আগামী ক্লাসে, অর্থাৎ এক সপ্তাহ পরের ক্লাসে সবাই স্কুলড্রেসেই থাকবে আশা করি। এ স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি আর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আসবে আগামীকাল। তবে সশরীর স্কুলে উপস্থিতির পাশাপাশি চালু আছে অনলাইনের ক্লাস। তাই অনেক অভিভাবক এখনই স্কুলে পাঠাতে চান না সন্তানকে।’

কলাবাগানে থাকেন সাদাফ আফরোজ। তাঁর ছেলে পড়ে ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে। মোবাইল ফোনে সাদাফ জানান, অনলাইনে ক্লাসের সুবিধা না থাকলে আসলে যেতেই হতো। শিক্ষকেরা জানালেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ খুললেও পাঠ্যসূচি শেষ করার মতো নির্ভরতা এখনই করা যাচ্ছে না এভাবে। অনলাইনের ওপরই নির্ভর করতে হবে। সাদাফও এখনই প্রস্তুত নন ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে।

এই ভয় যারা উপস্থিত হয়েছে, তাদের মধ্যেও কাজ করেছে। সেন্ট্রাল রোডের মুহম্মদ আবরার আর উম্মে আইমান দুই ভাই–বোনই এই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থী। প্রথম শ্রেণির আবরার আজ বাড়ি ফিরে ওর বোনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার ‘মৌখিক সনদ’ দিলে সোমবার সপ্তম শ্রেণির আইমান আসবে স্কুলে। তবে ধানমন্ডির এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এমনভাবে ‘আমাদের স্কুলের পথ’ বলে চিৎকার করে যে মনে হয় কোনো বহুজাতিক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ওরা। এ মন্তব্য আমাদের নয়, দুই শিক্ষার্থীর মায়ের। আবরারকে ভেতরে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন মা। দুই ঘণ্টা পর আবার নিতে আসতে হবে বলে আজ অধিকাংশ অভিভাবক আর বাসায় যাননি।

যেকোনো প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনার চেয়ে বেশি দরকার হৃদয় দিয়ে সেই প্রয়োজন অনুভব করা। ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রদের বরণ করে নিতে শিক্ষকেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রবেশপথে। পরিশীলিত কণ্ঠে বারবার সালামের শব্দ পেয়ে খেয়াল করলে দেখা গেল, একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের সালাম দিচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠ আর্দ্র হয়ে আসছে। ছাত্রদের সালাম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চকচকে দৃষ্টি নিয়ে ওই শিক্ষক বলেন, ‘কত দিন পর ওদের কাছ থেকে দেখলাম! অনলাইনের ক্লাস করাতেও আমরা স্কুলে এসেছি, মনিটরে বাচ্চাদের মুখ দেখেছি। কিন্তু আমাদের সামনে দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা হেঁটে যাচ্ছে কত দিন পর। দেড় বছরে বড় হয়ে গেছে অনেক। কত দিন পর মনে হচ্ছে জীবন আবার স্বাভাবিক হবে, এমন বিশ্বাস করতে পারি। এ বিশ্বাসটা পাচ্ছি আমাদের ছাত্রদের সামনাসামনি দেখে। তাই ওদের আমি আগে সালাম দিচ্ছি।’

ধানমন্ডির পরিচিত সচ্ছল মানুষের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার আপাতসরল এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে যাই, যেখানে ছয়টি শ্রেণি মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০।

টাবনের কাছে শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আমিন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ তৃতীয় শ্রেণির জন্য নির্ধারিত সময় সকাল নয়টা। কিন্তু সকাল সোয়া আটটায় পৌঁছে দেখা গেল, দুই রকম পোশাকে বসে আছে দুজন সহপাঠী। স্কুলের সহকারী শফিকুল গ্লাভস পরে দৌড়াদৌড়ি করছেন স্প্রে নিয়ে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কম্পাউন্ডের ভেতর প্রবেশ করলেই মনে হয় রাজধানীর বাইরে খুব মায়া নিয়ে একেকটা ইট গেঁথে তৈরি হয়েছে এর সব দেয়াল। গাছগাছালির ভেতর একটা ভবন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল আর বেগম রোকেয়ার নামে শ্রেণিকক্ষ।

সেসব কক্ষের ভেতরের দেয়ালে সাঁটানো শিশুদের হাতে আঁকা ছবি। গত বছর স্কুল বন্ধের আগে এঁকেছিল ওরা। বাগানে বসে থাকা তৃতীয় শ্রেণির জান্নাতের মন একটু খারাপ ছিল। সে যতখানি উৎসাহ নিয়ে এক ঘণ্টা আগে এসেছে, এত উৎসাহ নিয়ে বন্ধুরা এখনো আসেনি।
আরও একটা ঘটনা সে ঘটিয়েছে, যা জান্নাত বলতেই চায়নি। স্কুল বন্ধ বলে ওর কানে দুল পরানোর জন্য ছিদ্র করার চেষ্টা করা হয়। সে এমনই ভয় পেয়েছে যে জান্নাতের নানি নাতির ডান কানে ছিদ্র করেই হাত সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। এক কান পুরোপুরি সেরে উঠলে সে কানে দুল দিয়ে পছন্দ হলে অন্য কান ছিদ্র করার অনুমতি দেবে সে। জান্নাতের বাঁ কানে একটা ছোট্ট ফুল। সে এবার আশ্বস্ত। ডান কান আজ ছিদ্র করার কথা। হঠাৎ স্কুল খুলে যাওয়ায় সে খুব বিপদে পড়েছে। এখন বন্ধুরা হাসাহাসি করবে কি না, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছে ও।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd