1. admin@dailyoporadh.com : admin :
করোনাকালে বেড়েছে বাল্যবিবাহ - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক করোনা মহামারির মধ্যেও খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ‘নাম্বার ওয়ান’ বা সেরা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন করোনা সংক্রমণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৮ জন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত সারা দেশে প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গণ–অনশন, গণ–অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি)

করোনাকালে বেড়েছে বাল্যবিবাহ

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক।
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত

বাল্যবিবাহ বন্ধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারি এর অন্যতম কারণ। তবে করোনার সময় সারা দেশে কত বাল্যবিবাহ হয়েছে বা বাল্যবিবাহ বন্ধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে দেশ কতটা পিছিয়ে পড়ছে, তার হিসাব দিতে পারেনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন এই লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাল্যবিবাহ নিরোধে নেওয়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে শূন্যের কোঠায় নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। বছরের আর তিন মাস বাকি। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গত বছরের অগ্রগতি বা অবনতির তথ্যও জানা সম্ভব হয়নি। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সর্বশেষ জরিপ (মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯-এমআইসিএস) বলছে, দেশে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

সরকারের কর্মপরিকল্পনায় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। এমআইসিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হার ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২০-২১ সালে এই হার কতটুকু কমেছে বা বেড়েছে, তার হিসাব পাওয়া যায়নি।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সারা দেশে কত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়, তার হিসাব রাখে। এই প্রতিবেদক কয়েক সপ্তাহ ধরে মন্ত্রণালয় ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে এ–বিষয়ক তথ্যের জন্য যোগাযোগ করেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে, কথা বলে, মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে—কোনোভাবেই এ তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম কর্মসূচি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়টিও দেখভাল করে থাকে। এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল হোসেন। এখন তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) পরামর্শক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছরের মধ্যে বাল্যবিবাহ নির্মূলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কমিটি আছে।

তবে করোনায় এসব কমিটি এবং বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করতে পারেননি। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে।

সাত বছর আগে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের বাল্যবিবাহ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা জানানোর পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ নির্মূলের অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী কাজ করছে, সে তথ্যও দিতে রাজি হননি কর্মকর্তারা। দু-একজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, করোনার কারণে তাঁরা যথাযথভাবে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।

সরকারের ‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’-এর প্রাথমিক ফল প্রকাশিত হয় গত বছরের জানুয়ারিতে। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) এই জরিপকে দেশের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সবচেয়ে বড় জরিপ বলে ধরা হয়। ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ওপর পরিচালিত জরিপ বলছে, তাদের এক-তৃতীয়াংশের (৩১ শতাংশ) বিয়ে হয়েছে বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে। বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে হয়েছে এমন বাল্যবিবাহের হার ৫৯ শতাংশ। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ওপর জরিপ করে এই হার বের করা হয়। ২০১৪ সালের জরিপেও ১৮ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৫৯ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ দুই জরিপের মধ্য বাল্যবিবাহের শতকরা হারের পরিবর্তন হয়নি। অবশ্য ইউনিসেফের জরিপে বাল্যবিবাহের এই হার ৫১ শতাংশ। এ কারণে দেশে ১৫-১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার ৫১ থেকে ৫৯ শতাংশের মধ্যে বলে মনে করেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
করোনায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ

ইউনিসেফের প্রোগ্রাম অফিসার (জেন্ডার) তাহমিনা হক বলেন, সরকারের বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাল্যবিবাহ বন্ধের বর্তমান প্রচেষ্টাকে অন্তত আট গুণ বাড়াতে হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এই প্রচেষ্টা ১৭ গুণ বৃদ্ধি করতে হবে।

বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ, চলমান কার্যক্রম এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাল্যবিবাহ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি বছর ২০১৮-২০৩০। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম করোনায় বিধিনিষেধ, মানুষের চলাচল কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে প্রথম আলোকে শুধু বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার কতটুকু পিছিয়ে আছে, তা বলা যাচ্ছে না। চলতি বছর শেষ হলে দেশব্যাপী একটি জরিপ করে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এটি বলতে হবে।

তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, করোনায় বাল্যবিবাহ বাড়ছে। কিন্তু করোনাসংশ্লিষ্ট কাজের কারণে এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের নজর কমছে। প্রথম আলোর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেনকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকিউল ইসলাম জানিয়েছেন, গত বছরের মার্চ মাস থেকে চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত জেলায় পাঁচ শতাধিক বাল্যবিবাহ হয়েছে। গত ৯ জুলাই জেলার পাঁচ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহের ঘটনায় জড়িত একজন কাজিসহ ৯ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করে সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় বাল্যবিবাহ বেড়েছে, এ নিয়ে দ্বিমত করার কারণ নেই। ত্রাণ বা অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় বাল্যবিবাহ ঠেকানোর সংখ্যাও কমেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান জানান, জেলার ছয়টি উপজেলায় গত আট মাসে মাত্র ২৩টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। গত বছর শুধু সদর উপজেলাতেই ৪৫টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছিল।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd