1. admin@dailyoporadh.com : admin :
২৮ দিনেই দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯১১ জন - দৈনিক অপরাধ
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে

২৮ দিনেই দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯১১ জন

জয়িতা দাস।
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১
  • ২৮ বার পঠিত

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারণ (ডেডিকেটেড) করে দেওয়া রাজধানীর পাঁচটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে চারটিই এখনো সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। এসব হাসপাতালে রোগী এলে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় ২৩ আগস্ট রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, কমলাপুরের রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, আমিনবাজারের ২০ শয্যা হাসপাতাল, মিরপুর মাজার রোডের লালকুঠি হাসপাতাল ও কামরাঙ্গীরচরের ৩১ শয্যার হাসপাতাল—এই পাঁচটি হাসপাতালকে ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এর মধ্যে চারটিতেই রোগী ভর্তি না করায় চাপ বেড়েছে মিটফোর্ড হাসপাতালে।

মিটফোর্ড হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটে শয্যা আছে ৮০টি। গতকাল শনিবার রোগী ভর্তি ছিলেন ২২৬ জন। যে কারণে অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ও ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পারসন মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্য হাসপাতালগুলো রোগী ভর্তি না করায় ডেঙ্গু রোগীরা এখানে আসছেন।

গতকাল বেলা ১১টায় আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলার কয়েকটি কক্ষে বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলছে। রোগীদের টিকিট কাউন্টারের সামনে আটজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। অবশ্য তাঁদের কারও জ্বরের সমস্যা ছিল না। হাসপাতালের দোতলায় অন্তর্বিভাগের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকদের কক্ষ ছিল তালাবদ্ধ।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সাইদুন নাহার বলেন, এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা হয়। ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারণ করার পর এখানে ছয়জন চিকিৎসককে নতুন করে পদায়ন করা হয়েছে। জ্বর নিয়ে আসা রোগীদের সেবা দেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দৈনিক রাজধানীর ১২টি সরকারি ও ৩০টি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর তথ্য দেয়। এর মধ্যে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত পাঁচটির মধ্যে শুধু মিটফোর্ড হাসপাতালের তথ্য দেওয়া হয়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৯৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৫৮৩ জন। আর সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন ২২৬ রোগী।

মিরপুর মাজার রোডে অবস্থিত লালকুঠি হাসপাতাল (মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়। গতকাল এই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মা ও শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে জ্বরের রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ‘ফ্লু কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির কোনো ব্যবস্থা নেই।

লালকুঠি হাসপাতালের পরিচালক শামছুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, এই হাসপাতাল মূলত মা ও শিশুদের জন্য। এখানে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিতে হলে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধ দিতে হবে। জনবল চেয়ে ইতিমধ্যে দুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া গেলে ১০০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতালটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এখানে গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসা শুরু হয়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহেলী শারমিন বলেন, এখনো কোনো জনবল পাওয়া যায়নি। তবে আগামীকাল (আজ রোববার) নিজস্ব জনবল দিয়েই ডেঙ্গুর চিকিৎসা শুরু করা হবে।

হাসপাতালের পাশের সিয়াম টি স্টোরের দোকানি ইমরান হোসেন বলেন, এই হাসপাতালে তো করোনার টিকা দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর চিকিৎসা হয়, এমনটা তাঁরা জানেন না।

অন্যদিকে মতিঝিলের রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রিপন দাস জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসা শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাননি তাঁরা। কোনো লোকবল, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও দেওয়া হয়নি।

ঘোষণা দেওয়ার পাঁচ দিন পরও কেন চারটি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার জন্য এখনো প্রস্তুত করা যায়নি, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, যে হাসপাতালগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি রেলওয়ের এবং আরেকটি পরিবার পরিকল্পনার। যে কারণে সেগুলো প্রস্তুত করতে দেরি হচ্ছে। বাকি দুটি হাসপাতাল দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত (২৮ আগস্ট) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪১ জন, যা গত ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ বছরের জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে দুই হাজারের বেশি রোগী আক্রান্ত হন। আর চলতি আগস্ট মাসের ২৮ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯১১ জন। ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর ৭০ শতাংশই হয়েছে গত ২৮ দিনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮৪৮ জনই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ৭১ শতাংশই ভর্তি হন বেসরকারি হাসপাতালে।

চিকিৎসক, নার্স, সরঞ্জাম ছাড়া পাঁচটি হাসপাতাল ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত—এমন ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ডেঙ্গু রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। করোনার চিকিৎসা নিয়ে অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, এখন ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd