1. admin@dailyoporadh.com : admin :
উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়িতে পারিবারিক বিলাসিতা - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়িতে পারিবারিক বিলাসিতা

দৈনিক অপরাধ ডেস্ক।
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৯ বার পঠিত

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের একটি প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করেন প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী ও স্বজনেরা। একই প্রকল্পের তিনটি গাড়ি তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে, যদিও এ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিনা সুদে গাড়ি কেনার জন্য ঋণ পান। গাড়িগুলোর তেলখরচও দেওয়া হয় প্রকল্পের টাকায়।

ঘটনাটি ঘটেছে o (ডিএই) ‘নিরাপদ উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি’ শীর্ষক প্রকল্পে। ২০১৮ থেকে ২০২১ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ব্যয় ২৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। পুরো টাকার জোগান দিচ্ছে সরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এই প্রকল্পে মোট গাড়ি আছে ৯টি, যা প্রায় ৩ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি প্রকল্প পরিচালক মো. শাহীনুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিনজন অতিরিক্ত সচিব ব্যবহার করেন। আর দুটি গাড়ি অধিদপ্তরে রয়েছে। পরিচালক নিজে যে চারটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করেন, এর মধ্যে একটি নিজে ব্যবহার করেন। একটি তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। দুটি প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তা, পরিচালকের বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের ব্যবহার করতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী শুধু পরিচালক গাড়ি পাওয়ার যোগ্য।

এ প্রকল্পের পরিচালক মো. শাহীনুল ইসলাম  বলেন, ‘আমার কাছে থাকা চারটি গাড়ির দুটি রেখে বাকি দুটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে জমা দিয়ে দেব। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা গাড়িগুলো প্রকল্পের হলেও সরকারি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এর তেলখরচ আমাদের প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এ বিষয়ে শাহীনুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার পরের দিন তিনি দুটি গাড়ি ফেরত দিয়ে দেন। এর আগে ৪ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চিঠি দিয়ে প্রকল্পের দুটি গাড়ি পরিবহন পুলে জমা দিতে বলেছিল। এ দুটি জমা হলেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তার ব্যবহারের জন্য নেওয়া গাড়িগুলো ফেরত আসেনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ কাছে দুটি গাড়ি প্রকল্প থেকে ফেরত নিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তার কাছে থাকা গাড়ি ফেরত নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

কোন গাড়ি কে ব্যবহার করেন:

সূত্র জানিয়েছে, নিরাপদ উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি প্রকল্পের গাড়ির মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ঠ ১৩-১৩৩০ নম্বরের গাড়িটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা, যা প্রকল্প পরিচালক নিজে ব্যবহার করেন। আর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৩-৬৩৫৭ নম্বরের গাড়িটি প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। যদিও করোনার মধ্যে তাঁদের গাড়ি ব্যবহার কমেছে। এই গাড়ির চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, করোনার আগে প্রকল্প পরিচালক গাড়িটি মাঝেমধ্যে মোহাম্মদপুরের বাসায় পাঠাতেন। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির পর বেশির ভাগ সময় গাড়িটি অধিদপ্তরে থাকে। মাঝেমধ্যে প্রকল্পের কাজে ও পরিচালকের পরিবারের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।

অবশ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের গাড়ি যে-ই ব্যবহার করেন না কেন, সেটি অধিদপ্তরে রাখতে হয়। গাড়ি মূলত প্রকল্প পরিচালকের স্বজনেরাই ব্যবহার করেন। বাকি সময় অধিদপ্তরে থাকে।

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পে ঢাকা মেট্রো-শ ৫৩-৮৫৮৩ নম্বরের একটি মাইক্রোবাস রয়েছে। এটি প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন। ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৪-১৪১৭ নম্বরের একটি গাড়ি প্রকল্প পরিচালকের বন্ধু ও আত্মীয়রা ব্যবহার করে থাকেন। গতকাল এটি ফেরত নিয়েছে অধিদপ্তর।

প্রকল্পের ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৬৬৫৯ নম্বরের গাড়িটি ব্যবহার করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগ) সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম। তাঁকে প্রকল্প পরিচালক নিজেই গাড়িটি ব্যবহার করতে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গাড়িটির চালক বাবুল মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘স্যার সকালে এই গাড়িতে করে অফিসে যান ও বিকেলে বাসায় ফেরেন।’

সরকার উপসচিব থেকে ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা বিনা সুদে ঋণ দেয়। এই গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, তেলখরচ ও চালকের বেতনবাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তারপরও প্রকল্পের গাড়ি কেন ব্যবহার করতে হবে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম  বলেন, তিনি গাড়িটি মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতেন। তবে কয়েক দিন ধরে আর ব্যবহার করছেন না।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd