1. admin@dailyoporadh.com : admin :
৫’শ ২৭বছর বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দিরে দেবী মনসার বাৎসরিক পূঁজা - দৈনিক অপরাধ
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে

৫’শ ২৭বছর বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দিরে দেবী মনসার বাৎসরিক পূঁজা

জুয়েল দাস।
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৬২ বার পঠিত

মধ্যযুগ থেকে আজও পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে জন্ম নেওয়া কবি বিজয় গুপ্ত’র অমর সৃষ্টি “মনসা মঙ্গঁল” কাব্যর রচয়িতা ও প্রতিষ্ঠিত “মনসাকুন্ড” নামে খ্যাত গৈলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ৫’শ ২৭বছর বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দিরে দেবী মনসার বাৎসরিক পূঁজা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্জিকা মতে, প্রতিবছর শ্রাবন মাসের শেষ দিনে বিষ হরি বা বিষ হরণকারী দেবী মনসার পূঁজা ভারতীয় উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’-এ বাক্য ধারণ করে বিজয় গুপ্ত’র প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাৎসরিক পূঁজায় দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও পূণ্যার্থীর পুষ্পার্ঘ্য নিয়ে মন্দিরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমবেত হয়েছেন।

মনসা মঙ্গল কাব্য ও জনশ্রুতির ইতিহাস মতে, ৫শ ২৭ বছর আগে মধ্যযুগে সুলতান হোসেন শাহ্র রাজত্বকালে ইংরেজী ১৪৯৪ সনে কবি বিজয় গুপ্ত দেবী মনসা কর্র্তৃক স্বপ্নে দেখে নিজ বাড়ির সু-বিশাল দীঘি থেকে পূঁজার একটি ঘট পেয়ে তা তুলে এনে গৈলা গ্রামের নিজ বাড়িতে দেবী মনসার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

পরে দেবী মনসার আদেশে দিঘীর ঘাটের পার্শ্ববর্তী একটি বকুল গাছের নীচে বসে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েই ‘মনসা মঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সুলতান হোসেন শাহ্র রাজত্বকালে ওই বছর বিজয় গুপ্ত মনসা মঙ্গঁল রচনা করে রাজ দরবারে ‘মহা কবি’র খেতাবে অধিষ্টিত হন। সেখান থেকেই মনসা মঙ্গল কাব্যে বিশ^জোড়া কবির পরিচিতি পান বিজয় গুপ্ত।

জনশ্রুতি রয়েছে, দেবী পদ্মা বা মনসা বিজয় গুপ্তের কাব্য রচনায় সন্তুষ্ট হয়ে আশির্বাদ হিসেবে বিজয় গুপ্তকে স্বপ্নে বলেছিলেন ‘তুই নাম চাস?, না কাজ চাস?’ উত্তরে বিজয় গুপ্ত বলেছিলেন ‘আমি নাম চাই’। যে কারণে তার নাম বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়লেও তিনি দেহত্যাগ করেছেন উত্তরাধিকার বিহীন। বিজয় গুপ্তর জন্ম তারিখ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে নির্ণয় করা হলেও মৃত্যুকাল সম্পর্কে সঠিক কোন দিন তারিখ গবেষকরা বলতে পারেন নি। গবেষকদের ধারণা মতে, ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা এই বিখ্যাত কবি সম্ভাবত ৭০ বছর বয়সে ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দে কাশী ধামে বিজয় গুপ্ত দেহত্যাগ করেন।
বিজয় গুপ্তই সর্বপ্রথম তার রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যে ইংরেজী দিন, তারিখ ও সনের লিপিবদ্ধ করেন। এর আগেও একাধিক পন্ডিত ও কবিরা মনসা মঙ্গল রচনা করেছিলেন। যার অন্যতম ছিলেন ময়মনসিংহ’র কানা হরি দত্ত। কিন্তু তাদের তুলনায় বিজয়গুপ্তর কাব্য নিরস হলেও নৃপতি তিলক (সুলতান হোসেন শাহ) গুণকীর্তন ও ইংরেজী দিন, তারিখ ও সনের লিপিবদ্ধ করার কারণে তিনিই হয়ে ওঠেন মনসা মঙ্গল কাব্য রচয়িতাদের অন্যতম। সুলতানের দরবারে ‘মহা কবি’ খেতাব পাওয়ার পর সমগ্র ভারতবর্ষে মহাধুমধামে মনসা দেবীর পূঁজার প্রচলন ঘটে। মহাকবি বিজয় গুপ্তের পিতার নাম সনাতন গুপ্ত ও মাতার নাম রুক্সিনী দেবী।
গৈলা কবি বিজয় গুপ্তের স্মৃতি রক্ষা মনসা মন্দির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনারা বিজয় গুপ্তের মন্দির থেকে মনসা দেবীর বিগ্রহ চুরি করে নেওয়ার পর ২০০৮ সালে সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দেশ বিদেশের ভক্তবৃন্দদের আর্থিক অনুদানে প্রায় ১টন ওজনের পিতলের তৈরি মনসা দেবীর প্রতিমা পুণস্থাপন করা হয়। দৃষ্টি নন্দন হবার কারণে বরিশাল জেলার পর্যটন এলাকা হিসেবে বিজয় গুপ্তর প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দির রয়েছে অগ্রভাবে।

বরিশাল জেলা প্রশাসন জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকার শীর্ষে রেখেছে ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরের নাম। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পর্যটনের উল্লে¬খযোগ্য স্থান হিসেবে রয়েছে এ মন্দিরের স্বীকৃতি।

মনসা মন্দির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল দাশ গুপ্ত জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পূজা উপলক্ষে মানত দিতে দেশ-বিদেশের হাজার-হাজার ভক্তবৃন্দ পূজার্ঘ্য নিয়ে মন্দিরে আসেন।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd