1. admin@dailyoporadh.com : admin :
সংগীতজীবনে আট হাজারের মতো গানে সুর করেছেন আলাউদ্দীন আলী - দৈনিক অপরাধ
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আটক হওয়া ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) উজানের পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ঢুকেছেন ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, ক্রমান্বয়ে দেশের সব মানুষই টিকা পাবে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা তাদের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে

সংগীতজীবনে আট হাজারের মতো গানে সুর করেছেন আলাউদ্দীন আলী

জয়িতা দাস।
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৩ বার পঠিত

সত্তর দশকের শুরুতে আলাউদ্দীন আলীর সঙ্গে আমার পরিচয়। ঠিক দিনক্ষণ মনে নেই, খালি মনে আছে সেটা ছিল একটা চলচ্চিত্রের গানের রেকর্ডিং। তখন আমরা এফডিসিতে গান রেকর্ডিং করতাম। আলাউদ্দীন তখন বেহালা বাজাত। এরপর পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা। প্রথম কোন সিনেমায় ওর সুরে গেয়েছিলাম ঠিক মনে নেই। তারপর টেলিভিশনে ও বেতারে যখন সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ আরম্ভ করল, আমিও জড়িয়ে গেলাম। আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য বহু গান তারই সুরে, তারই সংগীত পরিচালনায়।

আলাউদ্দীন আলীর সুরে সেই সত্তর দশকের শুরু থেকে গাইলেও হিট গানের দেখা পেতে আট বছর লেগে যায়। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র ‘আছেন আমার মোক্তার’। গাজী (মাজহারুল আনোয়ার) ভাইয়ের লেখা এই গানটি আমাদের দুজনের প্রথম হিট গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলাম ১৯৭৬ সালে। এই গানের স্কেল যেমন খুবই উঁচু, নিচের দিকেও তেমনি। স্বরগ্রামের বিস্তৃতিটা অনেক বেশি। আমি তখন বলছিলাম, এত ওপরে আমি পারব না, একটু নিচে নামাও আলাউদ্দীন। সে নাছোড়বান্দা, ‘না, আপনি পারবেন। এটাই করেন।’ বেশ কষ্ট হয়েছিল। সে শিল্পীকে বুঝতে পারত এবং তার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা আদায়ের কৌশলও জানত। আরেকবার আমজাদ হোসেনের ‘আদরের সন্তান’ সিনেমায় ‘আমার জীবনে আর নেই কোনো আশা’ গানের রেকর্ডিং করছি। রেকর্ড করতে রাত ১২টা, ১টা, ২টা বেজে যায়, কিছুতেই ছাড়ে না। আমি বলি, এইবার ছাড়ো। আলাউদ্দীন বলে, ‘না। আমার কান্না না পাওয়া পর্যন্ত আপনাকে ছাড়ব না।’ আমজাদও তাই বলল। শেষ পর্যন্ত মনে হয়, রাত তিনটায় ওদের কান্না পেল, আমি ছাড়া পেলাম। ওর নিজের গায়কিও চমৎকার ছিল। যদিও গাইত না, যে দু-একটা গেয়েছে, চমৎকার। ‘আছেন আমার মোক্তার’ গানটার পর দুজনই পরিচিতি পাই। গানটি চুম্বকের মতো কাজ করে ওই সময়। এই গানের পর টানা তিনবার আমি, আলাউদ্দীন আলী, সাবিনা ইয়াসমীন সংগীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করি।

অসুস্থ হওয়ার পর আলাউদ্দীন যখন সাভার সিআরপিতে ভর্তি ছিল, আমি ও সাবিনা দুজনই গেলাম। সেটাই আমাদের শেষ দেখা। এরপরে কথা হয়েছে কিন্তু দেখা হয়নি। পরের দিকে অবশ্য আর কথা বলতেও পারত না। জড়িয়ে যেত।

গানের সুর ও সংগীত পরিচালনার ব্যাপারে আলাউদ্দীন আলী অত্যন্ত সিরিয়াস ছিল। যখন সুর করতে বসত, মনে হতো অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছে। তার তৈরি গানগুলো আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হয়, তবে সহজ নয়। তার কম্পোজিশনে গাওয়াটা কিন্তু সহজ নয়। কিন্তু শ্রোতারা যখন তার তৈরি গান শোনেন, মনে হয় সহজ। এই কঠিনকে সহজ করার এক অদ্ভুত অসাধারণ ক্ষমতা ওর ছিল।

অল্প কথায় আলাউদ্দীন আলীকে মূল্যায়ন করা মুশকিল। তবে এটুকু বলতে পারি, আমাদের চলচ্চিত্রের সংগীতে নতুন ধারার প্রবর্তক। রাগসংগীত, লোকসংগীত, মূলধারার বাংলা গান এবং পাশ্চাত্য সংগীত—সবকিছুর সংমিশ্রণে নতুন এক ধারা তৈরি করেছে, যা তার নিজস্ব। এ জায়গায় সে অদ্বিতীয় এবং অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যত গান তৈরি করেছে, কোনোটাই ফেলনা যায়নি। কমবেশি সব গানই শ্রোতার হৃদয়ে গেঁথেছে। তার গান সময়কে অতিক্রম করেও গেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক অপরাধ ©
A Sister Concern of Prachi 2020 Ltd